বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে নতুন প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে নতুন প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ সর্বজনবিদিত করা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের নিবন্ধিত ২৭০টি সমিতিকে সহযোগিতা দেওয়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে এই উদ্যোগে। এজন্য ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৭ নভেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিভিন্ন সুপারিশ দিয়ে সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বাঙালি জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম, লাখ লাখ ঘর-বাড়ী এবং অর্থ সম্পদের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা। তাই স্বাধীনতা  অর্থবহ করতে বঙ্গবন্ধু আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যথাযথ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি বা অনুপ্রেরণা। উল্লেখিত ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙ্গালি জাতি বিজয় অর্জন করে। ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীনরা দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে অবহেলা করেছিল। ফলে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশপ্রেমে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বহুল প্রচার অপরিহার্য। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের সামনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জল ভূমিকা তুলে ধরতে একটি পূর্নাঙ্গ কর্মসূচী নেওয়া দরকার। সে উদ্দেশ্যেই এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভূক্ত নেই। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সম্মতি নেওয়া হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading