বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে গর্ভের শিশুও!
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২২
বায়ুদূষণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কার কথা চিকিত্সকরা বরাবরই বলে আসছেন। তবে এবার তারা বলছেন, বায়ুদূষণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ তো বটেই, গর্ভের শিশুরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বায়ুদূষণের মধ্যে থাকলে অন্যদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর হূদরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ-ক্যানসার, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ (সিওপিডি), নিউমোনিয়াসহ চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া, গর্ভবতী মা যখন দূষিত বাতাস থেকে শ্বাস নেন, তখন সন্তানের ফুসফুস ও মস্তিষ্কেও তা পৌঁছে যায়। এর ফলে গর্ভের শিশুর মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়। এদিকে, গত ১৯ নভেম্বর বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই)-বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীবাসী, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। আর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর-বি)-এর গবেষক আতিক আহসান বলেন, ‘২০১৪ সালে ১৬৫ দিন ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর থেকে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর ছিল। ২০১৫ সালে সেটা হয় ১৭৩ দিন, ২০১৬ সালে ১২৯ দিন, ২০১৭ সালে ১৮৫ দিন এবং ২০১৮ সালে ছিল সর্বোচ্চ ১৯৭ দিন।’ জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডি ধূমপায়ীদের বেশি হতে দেখা যায়। এটি ফুসফুসের একটা অসুখ। এতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সিওপিডি-র ফলে কাশি দেখা দেয়, সেই সঙ্গে কফসহ নানা উপসর্গ থাকে। এছাড়া বাতাসের দূষণ, ধুলো, ধোঁয়া ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি করে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে গর্ভবর্তী নারীরা বেশি আক্রান্ত হন। এতে গর্ভের শিশুদেরও এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।’ প্রায় একই বক্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হকেরও। তিনি বলেন, এনভায়রনমেন্ট সরাসরি হূদরোগের ওপর প্রভাব ফেলে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ভয়াবহ রকমের বায়ুদূষণ। দূষিত বাতাস অক্সিজেন ক্যারিং সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর অক্সিজেন ক্যারিং সক্ষমতা নষ্ট করে দিলেই তখন হূদরোগের আশঙ্কা তৈরি হয়। হার্টের পাম্পিং অ্যাকটিভিটি কমে যায়, এভাবেই হার্ট দুর্বল হয়ে যায়। বিষয়টি কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ঘটে তা নয়, এসব রোগে গর্ভবতী কোনও নারী আক্রান্ত হলে, তা তার শিশুর ফুসফুস ও মস্তিষ্কেও সংক্রমিত হতে পারে।’ দূষিত বাতাস শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ বলে মনে করেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। আর গর্ভবতী মা দূষিত বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার গর্ভের সন্তানও সেই ঝুঁকিতে পড়ছে। এই শিশুর মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ দূষিত বাতাসের কারণে মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তথ্য সহায়তা সারাবাংলা।

