২ মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক , পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

২ মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক , পণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:২৪

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ, চাল, ডাল, লবন, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কারসাজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। পেঁয়াজ মজুদ করে যারা সংকট তৈরি করেছে সেসব মজুদধারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হবে। সারাবছর বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে একযোগে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য,শিল্প, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকশেষে ব্রিফিংয়ে সরকারের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম ও এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমসহ

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পোঁজ সংকট কাটকে: অপরদিকে, এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিমানে ও জাহাজে করে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংকট কেটে উঠবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বেশি চাপ দিলে বাজারে উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মানুষ মোটা চালের পরিবর্তে এখন সরু চাল বেশি খাচ্ছে। এ কারণে সরু চালে বেশি চাপ পড়ায় দাম কিছুটা বাড়লেও এখন চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে ও এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ব্রিফিংয়ে বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বছরব্যাপী যে চাহিদা আছে, যে পরিমাণ উত্পাদন হয় এবং আমদানির পরিমাণ কেমন বা আমদানি মূল্য কেমন। বাজারে এর যৌক্তিক দাম কেমন হওয়া উচিত- এসব বিষয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি- ভবিষ্যতে আর কোনো নিত্যপণ্যের সংকট তৈরি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আমরা সরকারি-বেসরকারিভাবে আরো সতর্ক থাকবো। পণ্যের সঠিক মুল্যায়ন, উত্পাদন ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক রেখে বাজারে মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতে বাজারে পেঁয়াজের মত কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি না দাঁড়ায়। তিনি বলেন, এজন্য ভোক্তা পর্যায়ে সুলভ দামে পণ্য পৌঁছাতে সরকার ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কোনো ব্যবসায়ী বা সংগঠন অহেতুক কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এফবিসিসিআই। নিত্যপয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর বছরব্যাপী চাহিদা, উত্পাদন, আমদানি-মজুদ ব্যবস্থা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও যৌক্তিক মুল্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা বৈঠকে উঠে আসে বলেও তিনি জানান।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading