‘রোহিঙ্গা নিপীড়নে’র বিচার মিয়ানমারে কোর্ট মার্শাল শুরু
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৮ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৪
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগে কয়েকজন সেনা সদস্য ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তদন্তের পর মঙ্গলবার নিজস্ব আদালতে এই বিচার শুরু করেছে তারা। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন। রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে এই বিচার শুরু করলো দেশটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাতে ৭ লাখের বেশি মানুষ। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাখাইনের গু দার পিন গ্রামে অন্তত পাঁচটি গণকবরের সন্ধান দেয় মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি। বার্তা সংস্থাটি জানায়, সেনা সদস্য ও বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা বন্দুক, ছুরি, রকেট লাঞ্চার ও গ্রেনেড নিয়ে ওই গ্রামে হামলা চালায়। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা জানায় এই ঘটনায় শত শত মানুষ হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহগুলো গণকবরে সমাহিত করা হয়। তবে মিয়ানমার সরকার হামলার খবর অস্বীকার করে জানায় গনকবরে পাওয়া মৃতদেহগুলো সন্ত্রাসীদের। ওই সময়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, প্রায় ৫০০ গ্রামবাসী তাদের ওপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী তদন্ত শুরু করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশটির সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে রাখাইনের গু দার পিয়ান গ্রামে নির্দেশনা অনুসরণের দুর্বলতা ছিল সেনা সদস্যদের। জানানো হয়, সামরিক বিচার ব্যবস্থার অধীনে এসব সেনা সদস্যদের কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি করা হবে। তবে কতজন সেনা সদস্য বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে বা কবে এই কোর্ট মার্শাল অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

