হলি আর্টিজানে নৃশংস হামলা মামলার ঐতিহাসিক রায়
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৮ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪২
মিলন গাজী : বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহত্ জঙ্গি হামলা মামলার প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। রায়ে ন্যায় বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেই সঙ্গে রায়টি জঙ্গিবাদ বা উগ্রপন্থী মতাদর্শীদের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্বরূপও বটে। সর্বপরি হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কের গ্লানি থেকে মুক্ত হয়েছে। কারণ, ওই হামলায় শুধু দেশের নিরিহ ও সাধারণ মানুষই নিহত হননি, বিভিন্ন দেশের নিরপরাধ নাগরিকও হতাহতের শিকার হন। যা বিশ্বে বাংলাদেশকে ছোট করেছিল, অপমানিত করেছিল এবং লজ্জায় ফেলেছিল। রায়ের মাধ্যমে সেই স্থান থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। সেই সঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায় তরুণ প্রজন্মকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিবে, যে জঙ্গিবাদ বা উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নৃশংসতায় জড়ালে রক্ষা নেই। চূড়ান্ত পরিণতি হবে ভয়াবহ। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে অপরাধীরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা দয়া পাওয়ার উপযুক্ত নয়। বরং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। রায়ে বিভিন্ন মহল সন্তোষ প্রকাশ করে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মার্কিন আমেরিকার পক্ষ থেকে এই বিচারকে বাংলাদেশের জন্য ‘মাইলফলক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার পর আসামিরা আদালত চত্ত্বরে আস্ফাালন করেছে, স্লোগান দিয়েছে তাদের মতাদর্শের পক্ষে। আইএসের লোগো সম্বলিত একটি টুপিও পরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। সেই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীর ধারণা, তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি ‘সংক্ষুব্ধ’ এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। সে যাই হোক, ওই জঙ্গি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ পুরো জাতি এবং আন্তর্জাতিক মহলও যে ঐতিহাসিক এই রায়ে সন্তুষ্ট ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে রায়ের দিন ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়। এর কয়েকদিন আগে থেকেই সারাদেশের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। ফলে রায়কে ঘিরে এ পর্যন্ত কোথাও কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ পায়নি জঙ্গিরা। আইনশৃঙ্খলা বহিনীর দাবি অনুযায়ী, নতুন করে জঙ্গিরা দেশে আর কোনো বড় অঘটন ঘটানোর সুযোগ ও সাহস কোনোটাই পাবে না। জাতির প্রত্যাশাও সেটাই।

৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস: হলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত। আর নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানের বিরুদ্ধে সাক্ষপ্রমাণ না থাকায় তাকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। গতকাল বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান ঐতিহাসিক এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সরোয়ার খান জাকির এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে এদিন সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা হয়। বেলা ১২টায় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। এসময় ৮ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- হামলার মূল সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
রায় সন্তোষজনক: বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান হামলা মামলায় সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায় ঘোষণা শেষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজানের মতো বর্বরোচিত হামলা যেন আর না ঘটে, এই রায় একটি দৃষ্টান্ত। মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানের খালাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘রায়ের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। হাতে পেলে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’
এটি একটি যুগান্তকারী রায়: সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ড. শফিক আহমেদ বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গিরা যে নৃসংশতা দেখিয়েছে, তাতে আসামিদের প্রাণদণ্ড হওয়াটাই যথাযথ। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য রায়ের বিস্তারিত হাই কোর্ট আসবে; আসামিরাও হয়তো আপিল করবে। হাই কোর্ট যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এরপর তা সর্বোচ্চ আদালতে গড়াবে। সেখানেও রায় বহাল থাকলে আসামিদের দোষ স্বীকার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া ছাড়া আর কোনো আইনি সুযোগ থাকবে না। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সাধারণত প্রাণভিক্ষার আবেদন গ্রহণ করবেন না বলেই আমার ধারণা।’
বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক: হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলার রায়কে বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রায় ঘোষণার পরপরই ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘এ রায়ের ফলে সেদিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কিছুটা হলেও কষ্টের লাঘব হবে। এই বিচার বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক স্বরূপ।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার তদন্তকাজে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করতে পেরে সম্মানিত। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিশেষ করে আইনের শাসন পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। এতে আরও বলা হয়েছে, এই ভাবগম্ভীর মুহূর্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাধারণ নাগরিক এবং ঘৃণ্য ওই সন্ত্রাসী হামলার মোকাবিলায় হতাহত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রিয়জনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় গভীর শোক প্রকাশ করছে।
আপিল করবে আসামিপক্ষ: এদিকে, রায় সন্তোষজনক ‘হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন। সেইসঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রায় ঘোষণার পর অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ের প্রতি আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আদালতকে বারবার বলেছি, রাষ্ট্রপক্ষ যেসব সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করেছেন, তা থেকে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন। কিন্তু বিচারক যে রায় দিলেন, তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।’ এর আগে গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ বিচারক রায় ঘোষনার জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলায় ১১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে, গত বছরের ৮ আগস্ট আট জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ৩০ জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এ দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। ঘটনাস্থলে নিহত ৫ আসামি হলো- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া, বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
কী ঘটেছিল?: ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় লেকের তীরে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় জঙ্গিরা। তদন্তকারীদের ধারণা, রেস্তোরাঁটির সবুজ লন ছিল বিদেশিদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বিদেশিদের নিয়মিত আনাগোনা এবং শিথিল নিরাপত্তার কারণেই ওই রেস্তোরাঁকে জঙ্গিরা হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল। রোজার ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগে যেদিন ওই হামলা হয়, সেদিন ছিল শুক্রবার। পিস্তল, সাব মেশিনগান আর ধারালো অস্ত্র হাতে পাঁচ তরুণ রাত পৌনে ৯টার দিকে ওই ক্যাফেতে ঢুকে শুরু করে নৃশংসতা। জবাই ও গুলি করে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে তারা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানের সময় ও পরে হাসপাতালে মারা যায় হলি আর্টিজান বেকারির দুই কর্মচারী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই হামলার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে চলে আসে; তখনও অনেকে হলি আর্টিজানের ভেতরে কার্যত জিম্মি হয়ে ছিলেন। রুদ্ধশ্বাস রাত পেরিয়ে ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা নামে অভিযানে; ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের সেই অভিযানে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ তরুণের সবাই মারা পড়ে। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১৩ জনকে। এরপর দুই বছরে হামলায় জড়িত আরও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। গুলশান হামলার তদন্তে মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও তাদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার আটজনকেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
হামলাকারী ছিলেন, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ওরফে মামুন, নিবরাজ ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। (সবাই অভিযানে নিহত)। হামলায় নিহতের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং বাংলাদেশিরা হলেন ইশরাত আকন্দ, ফারাজ আইয়াজ হোসেন ও অবিন্তা কবীর। সেইসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার তত্কালীণ ওসি মো. সালাহউদ্দিন খান উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। ঘটনার পরের দিন ২ জুলাই, সন্ত্রাস দমন আইনে গুলশান থানায় এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্তকারী ছিলেন- কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।
হামলার উদ্দেশ্য: দুই বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। সেখানে বলা হয়, হলি আর্টিজানে হামলার পেছনে জঙ্গিদের মূলত তিনটি উদ্দেশ্য ছিল। ১. কূটনৈতিক এলাকায় হামলা করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়া; ২. বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে নৃশংসতার প্রকাশ ঘটানো এবং ৩. দেশে বিদেশে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাওয়া এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
রায় শুনতে এসেছিলেন বিদেশিরাও: রায়কে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই আদালতপাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ানো হয়। রায়ের দিন সকালে আট আসামিকে কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলেন আদালত প্রাঙ্গণে। গুলশান হামলায় যেসব দেশের নাগরিকরা নিহত হয়েছিলেন, সেসব দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও রায় শুনতে আদালতে এসেছিলেন। রায়ে সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

