আইএস-টুপি প্রশ্নে হাইকোর্ট – সর্ষের মধ্যে ভূত
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৮
আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও গুলশনের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলার দুই আসামির কাছে কীভাবে আইএস-এর লোগোসহ টুপি এলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ঢাকা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের এক বিচারপতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত!’ ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজারেও গতকাল সোমবার এ খবরটি স্থান পেয়েছে। আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য একটি মামলায় আইনজীবী জেড আই খান পান্না বিচারপতিদের বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছি, আদালতে পুলিশের বেষ্টনির মধ্যে আসামিদের হাতে আইএস-এর চিহ্ন দেওয়া টুপি পৌঁছে যাচ্ছে। এর পরে তো নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমি চিন্তিত। রবিবার দুই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এ কথা বলেন আইনজীবী জেড আই খান। এসময় আদালত বলেন, ‘শর্ষের মধ্যেই ভূত। বিষয়টি বিস্ময়কর। তবে বুকে সাহস নিয়ে চলতে হয় মানবাধিকার কর্মীদের।’ ওই আইনজীবী বিচারকরদের জানান, পুলিশ বলছে তারা কিছু জানে না। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগার থেকে টুপি আসামিরা নিয়ে আসেনি। এ জন্য জেল কর্তৃপক্ষও তদন্ত করছেন। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আসামিদের হাতে তা হলে ওই আইএস টুপি দিল কে? ইতিমধ্যে কারা দফতরের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ওইদিন সরকারের কাছে পেশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, আদালতে নিয়ে যাওয়ার আগে প্রত্যেক আসামিকে যথেষ্ট তল্লাশি করা হয়েছে। ভিডিয়ো ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়েছে। কারাগার থেকে সঙ্গে ওই টুপি নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। নিম্ন আদালতে গুলশন রেস্তরাঁ মামলার রায় বেরনোর দিন নিরাপত্তার কারণে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের শুধু ছাড় ছিল। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সে দিনের ভিডিও খতিয়ে দেখে ৩০ জনকে আসামিদের আশেপাশে যেতে দেখা গিয়েছে। তার মধ্যে দু’জন ভুয়া আইনজীবীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনজীবীর পোশাক পরে তাদের আসামিদের লিফটে দেখা গিয়েছে। করিডরেও তারা ঘোরাঘুরি করছিল। এদের একজনের পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। এদের কেউ আসামিদের হাতে টুপি দিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা।

