‘পেঁয়াজ বাড়ালো মূল্যস্ফীতি’
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪
একনেকে ৭ প্রকল্প অনুমোদন
পেঁয়াজের কারণে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রধান নায়ক হিসেবে পেঁয়াজকেই উল্লেখ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, পেঁয়াজের দাম এবং সবজির দাম কমলে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে। আমরা তাই করার চেষ্টা করছি। ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশে। ৭ প্রকল্প অনুমোদন: মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৯ হাজার ২৪১ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ২৪ হাজার টাকা খরচ করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পটিতে সবচেয়ে বেশি খরচ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এখন ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে মূল ব্যয় দাড়াচ্ছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, বিমানবন্দর উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পটি ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সেটি না হওয়ায় এখন ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ায় প্রকল্পের খরচ বেড়েছে। অর্থ্যাত্ আগে ভিভিআইপি টার্মিনাল আলাদা করার কথা ছিল। এখন সেটি বিমান বন্দরের মূল ভবনের সঙ্গেই হবে। এছাড়াও, আমদানি-রফতানি কার্গো হ্যান্ডলিং আগের ডিজাইনে এক সঙ্গে ছিল। নতুন ডিজাইনে এ দুটি আলাদা স্থানে হবে। প্রকল্পটির অনুশাসনে প্রধানমন্ত্রীর জানিয়েছেন, পুরনো রাস্তা সংস্কার এবং আন্তঃজেলা সড়ক চার লেন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন রাস্তা তৈরি নিরুত্সাহিত করতে হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়া অনুমোদিত অন্য প্রকল্প ও তার খরচের হিসাবগুলো হচ্ছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সারী কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলার রামু- ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৬৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ হাসাড়া পর্যন্ত জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী- দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক এর কুষ্টিয়া শহরাংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৭৪ কোটি টাকা। নাগেশ্বরী-কাশিপুর-ফুলবাড়ী-কুলাঘাট-লালমনিরহাট জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ঢাকা, মাদারিপুর ও রংপুর জেলার ৩টি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীর পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন- পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবতী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম।

