‘বিতর্কিত’ নারকিত্ব আইন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৬
ইন্ডিয়া ভ্রমণ সতর্কতা আমেরিকা-ব্রিটেনের, পশ্চিমবঙ্গে থানা ও রেলে আগুন
ইন্ডিয়ার নতুন সংশোধিত ‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য। প্রতিবাদ বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুরের বিভিন্ন শহর। এসব রাজ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। মোতায়েন করা রায়েছে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর সদস্য। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তো আছেই। কিন্তু কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে ইন্ডিয়া সরকার। মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেও বিক্ষোভ-ভাঙচুর বন্ধ করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে ব্রিটেন ও আমেরিকা। এর আগে জাতিসংঘ নতুন নাগরিকত্ব আইনকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর ইন্ডিয়ায় সফর বাতিল করেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও। যা কূটনৈতিকভাবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকরকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। আনন্দবাজার, বিবিসি, রয়টার্স ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে রাজপথে বিক্ষোভে প্রতিবাদী মানুষের ঢল নেমেছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫ জনের বেশি বিক্ষোভকারী। এমন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ভারতের এই রাজ্যগুলোতে বেড়াতে আসার ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই ইন্ডিয়ার আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে। প্রতিবাদের আগুনে বেশি জ্বলছে আসাম ও ত্রিপুরা। এই পরিস্থিতিতে এই সমস্ত অঞ্চলে ভ্রমণের সময় গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হতে পারে যেকোনও সময়। তাই আপাত স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলিতে পা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে। খবরে জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্ব, বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুরাতে বিক্ষোভ বড় আকার নিয়েছে। গুয়াহাটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে ও আসামের ১০ জেলায় মোবাইল পরিষেবা বন্ধ। তাই এই এলাকায় বেড়াতে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন পর্যটকরা।’ এত আরও বলা হয়েছে, কারও যদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনও কারণে সেখানে যেতেই হয়, তাহলে যেনও তারা এই নির্দেশিকায় জানানো সব বিষয় মাথায় রাখেন ও যে যে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে তা মেনে চলেন। এছাড়া তিনি বা তারা যেন সবসময় ব্রিটিশ পর্যটন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তাতেও প্রায় একই কথা লেখা রয়েছে। তবে তারা আসামে এই মুহূর্তে কাউকে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নাগরিকত্ব (সংশোধিত) আইন বিরোধী বিক্ষোভে গত কয়েকদিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে আসাম। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আটক করা হয়েছে সহগ্রাধিক মানুষকে। গ্রেফতার হয়েছেন ৬৫ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসন আসামের অন্তত ১০টি জেলায় আরও ৪৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। গুজব রুখতে বুধবার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তপ্ত আসামে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে। গুয়াহাটির ইউনিফায়েড কমান্ডারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ওদালগুড়ি, শোণিতপুর, ডিব্রুগড়, ডিমহাসসহ বেশ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপারদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে থানা ও রেলে আগুন: নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের আগুন আসাম, ত্রিপুরার পর ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। গতকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন, বাস ও থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। লোকসভা, রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য উত্তাল হয়ে ওটে। শনিবার রাজ্যটিতে রেল অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি কয়েক জায়গায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এর সঙ্গে তিনি লিখেন, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করুন, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। পথ অবরোধ, রেল অবরোধ করবেন না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। যারা গন্ডগোল করছেন, রাস্তায় নেমে আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। বাসে আগুন লাগিয়ে, ট্রেনে পাথর ছুড়ে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল।

