কুমিল্লায় পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২২
চলছে শীতকাল। শীত মানেই তো পিঠা-পুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম-ম করছে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। শীতল আমেজ এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। হাড়কাপানো শীতে জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলো। কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছে পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও বেশ ভালোই। চলতি পথে থেমে কেউ বা আড্ডায় বসেই সন্ধ্যার নাশতাটা সেরে নিচ্ছেন গরম গরম ভাপা পিঠা কিংবা চিতোই পিঠা দিয়ে। বিক্রেতাদের সঙ্গেও আলাপ করে জানা গেল, বেচা-বিক্রি বেশ ভালোই। তাই তো অনেকেই এ শীতের মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। পৌষের তীব্র শীতে কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, অলি-গলিতে জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রির হিড়িক। শীতের সন্ধ্যার পর পরেই ভাপা পিঠা বিক্রির দোকানগুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নান শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের রেইসকোর্স, ঝাউতলা, বাদুরতলা,কান্দিরপাড়, সদর হাসপাতালের সামনে, রানীর বাজার, টমছমব্রীজ, রাজগঞ্জ, চকবাজারসহ শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে রাস্তার ফুটপাতে ও মোড়ে মোড়ে বসেছে ভাপা পিঠার দোকান। পাশাপশি বিক্রি করছে চিতল (চিতাই) পিঠাও। বিশেষ করে ভোর বেলা আর সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষ, নারী ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। পিঠা বিক্রেতা আলআমিন, শামসুনাহার ও মতিন মিয়া বলেন, আমরা সারাদিন ইট ভাটায় কাজ করি। অবসর সময় বাড়তি আয়ের জন্য বিকেল বেলা পিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। নতুন চালের গুড়ো ও নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে খুব যত্ন সহকারে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা। পিঠাকে আরো সুসাদু করার জন্য নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। ভাপা পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য চিতল (চিতাই) পিঠা তৈরি করা হয়। এসব পিঠা প্রতি পিস ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি পরিমান চালের পিঠা বিক্রি হয়। শীতের চিতল (চিতাই) পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা, সুটকি ও ধনেপাতার ভর্তা ফ্রি দেওয়া হয়।

