মদপ্য পুরুষরাই নারীদের বেশি নির্যাতন করে
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:২০
বেশি মদপান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে যারা এই মাদকের উপর নির্ভরশীল, অন্যদের তুলনায় তারা বেশি নারীদের নির্যাতন করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। পিএলওএস-মেডিসিন নামে একটি অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি ১৬ বছর ধরে সুইডেনে হাজার হাজার মেডিকেল রেকর্ড এবং পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয় যে, যেসব পুরুষের মানসিক অসুস্থতা বা আচরণগত সমস্যা রয়েছে তাদেরও সঙ্গীর প্রতি সহিংস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে এদের সবগুলোই মদ্যপান বা মাদক ব্যবহারের কারণে হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সিনা ফজল যিনি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি বলেন যে, এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, উন্নত অষুধ এবং অ্যালকোহল চিকিত্সা সেবার মান উন্নয়ন এবং অপরাধীদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে পারিবারিক নির্যাতন কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমেরিকা, সুইডেন এবং লন্ডনের কিংস কলেজের বিশেষজ্ঞরা, ১ লাখ ৪০ হাজার পুরুষ যারা মদ্যপান কিংবা মাদক ব্যবহারজনিত সমস্যায় ভুগে চিকিত্সা নিয়েছেন তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন যে, এদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে তাদের স্ত্রী, নারীবন্ধু কিংবা সাবেক নারী সঙ্গীকে হুমকি, আক্রমণ, কিংবা যৌন নির্যাতনের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা দেখেছেন যে, অ্যালকোহলে নির্ভরশীল ১.৭ ভাগ পুরুষ এ ধরণের অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন- যা একই পরিমাণ এবং বয়সের অন্য পুরুষদের তুলনায় ৬গুণ বেশি। মাদক ব্যবহারকারী পুরুষদের মধ্যে একই ধরণের অভিযোগ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২.১ ভাগ পুরুষকে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ গুন বেশি। যেখানে সন্দেহাতীতভাবেই, অ্যালকোহল এবং মাদক গ্রহণের সাথে পারিবারিক নির্যাতনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেখানে এই গবেষণাকে সতর্কতার সাথে গ্রহণ করা উচিত, বলেন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ভিকটিম কমিশনার ডেম ভেরা বাইর্ড।

