ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকসহ আসামি ৩৭
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ৩৭ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন ভিপি নুরুল হক নুর। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে নুর মামলা দায়ের করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ওই অতর্কিত হামলায় প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসাইন। এ বিষয়ে ঢাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, মামলায় নুর নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় আমি তার পক্ষ হয়ে মামলার অভিযোগপত্রটি থানায় জমা দিয়েছি। মামলার আসামিরা হলেন- (১) সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ (২) সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ (৩) আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ (৪) আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ , (৫) সনেট মাহমুদ, সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাবি (৬) ইয়াসির আরাফাত তুর্য, সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাবি (৭) মারিয়াম জাহান খান, ভিপি, সূর্যসেন হল সংসদ (৮) শেখ মুহাম্মদ তানিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ, (৯) আব্দুর আলীম খান, ভিপি, এ.এফ. রহমান হল সংসদ, (১০) আবু ইউনুস, এজিএস, বিজয় একাত্তর হল সংসদ (১১) রাকিবুল হাসান ঐতিহ্য, সদস্য, ডাকসু (১২) মাহমুদুর হাসান, সদস্য, ডাকসু (১৩) সাদ বিন কাদের চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, ডাকসু, (১৪) রবিউল হোসেন রানা, সহ-সভাপতি, ঢাবি ছাত্রলীগ, (১৫) নিয়ামত উল্লাহ তপন, শিক্ষাবিষয়ক উপ-সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ (১৬) হাসিবুল হাসান শান্ত, জিএস, জিয়া হল সংসদ (১৭) সিফাতুজ্জামান খান, ক্রীড়া সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ (১৮) মিজানুর রহমান মিজান, জিএস, মহসীন হল সংসদ (১৯) ফেরদৌস আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ (২০) আব্দুর রহিম সরকার, জিএস, এ.এফ রহমান হল সংসদ (২১) তানজিল ইমরান তালাশ, সাহিত্য সম্পাদক, এ.এফ রহমান হল সংসদ, (২২) মাহমুদুল হাসান বাবু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ, (২৩) সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া হল ছাত্রলীগ, (২৪) মামুন বিন সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, (২৫) ইবনুল হাসান উজ্জ্বল, (২৬) খাজাখায়ের সুজন। এছাড়া উপ-স্কুল বিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, (২৭) খান মিলন হোসেন নীরব, এস.এম. হল ছাত্রলীগ, (২৮) ইমরান আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রলীগ, (২৯) হূদয় হাসান সাহাগ, গণশিক্ষা সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ, (৩০) উজ্জ্বল, চারুকলা ছাত্রলীগ (৩১) আরিফুল ইসলাম (৩২) ফাতিমা রিপা, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ (৩৩) আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ (জামাল গ্রুপ) (৩৪) আইনুল ইসলাম মাহবুব, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, (৩৫) মেহেদী হাসান নিবিড়, (৩৬) মেহেদী হাসান শান্ত, জিএস, বঙ্গবন্ধু হল সংসদ, (৩৭) জীবন রায়, সহ সভাপতি, ঢাবি ছাত্রলীগ। মামলার এজাহারে উপরোক্ত নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তারাসহ ছাত্রলীগের অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী এই হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সময় আনুমানিক দুপুর ১২টায়, আমি, আমার সংগঠনের সদস্যরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার কক্ষে অবস্থান করি। হঠাত্ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আমার কক্ষে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে লাঠি সোটা নিয়ে হামলা করে চলে যায়। তারা আবারও যাতে হামলা করতে না পারে, তাই ডাকসু কর্মচারীদের সহায়তায় ডাকসুর মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু’র এজিএস সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ডাকসু কর্মচারীদের সরিয়ে মূল ফটকের তালা খুলে আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। তারা আমার কক্ষের বাতি নিভিয়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র সহকারে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমার ডান হাত এবং ডান পাঁজর মারাত্মকভাবে জখম হয়। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের নিম্নোক্ত নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়। তারা হলেন – (১) ফারুক হাসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক, ছাত্র অধিকার পরিষদ (২) মুহাম্মদ রাশেদ খান, যুগ্ম-আহ্বায়ক (৩) এপিএম সুহেল, যুগ্ম-আহবায়ক (৪) হাসান আল মামুন, আহ্বায়ক (৫) আমিনুর ইসলাম (৬) তুহিন ফারাবী (৭) মেহদী হাসান (৮) নাজমুল হাসান (৯) আয়াতুল্লাহ বেহেশতী (১০) রবিউল হোসেন (১২) মশিউর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক (১৩) সাইফুল ইসলাম, (১৪) আবু হানিফ, যুগ্ম-আহ্বায়ক, (১৫) আরিফুর রহমানসহ ৩০ জন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে ফারাবী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। অন্যান্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এই অতর্কিত হামলায় প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসাইন।

