বড়দিনের তাতপর্য

বড়দিনের তাতপর্য

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪০

মিলন গাজী ষ শুভ বড়দিন। বিশ্বব্যাপী শন্তির প্রার্থনায় আজ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন পালিত হচ্ছে। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব এই বড়দিনটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটিকে ক্রিস্টমাস হিসেবে সম্বোধন করা হলেও বাংলাদেশে দিনটিকে বড়দিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। এটি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উত্সব হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ দিনটিতে আনন্দ উত্সবে মাতেন। এটি বাঙালি সংস্কৃতির বড় ঐতিহ্য। বরাবরের মতো এবার দিবসটি উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খ্রিস্টান ধর্মমতে, এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যদিও দিনটি নিয়ে তাদের মধ্যেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের খ্রিস্টানরা এই দিনটিকেই যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালন করে আসছে। খ্রিষ্টধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে প্রভু যিশুর এই ধরায় আগমন ঘটে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিষ্টধর্মানুসারীরাও যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ-উত্সব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন। এ উপলক্ষ্যে আজ বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সরকারি ছুটির দিন। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সবধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম, আচার ও অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করে আসছেন। বিদ্যমান সম্প্রীতির এই সুমহান ঐতিহ্যকে আরো সুদৃঢ় করতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। জাতির পিতা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন উল্লেখ করে তিনি একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বড়দিনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ সকল নাগরিকের শান্তি কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান জানান। বড়দিন উপলক্ষে আজ রাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা এবং আগামীকাল সকাল থেকে বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে । দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিষ্টান পরিবারে কেক তৈরি হবে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভেতরে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। সেই সঙ্গে সারাদেশের গির্জাগুলোর পাশাপাশি খ্রিস্টানদের বাড়ি-ঘর ও বড় শহরগুলোর নামি-দামি হোটেলগুলোও সেজেছে রঙিন সাজে। যিশুখ্রিস্টের প্রচারিত শান্তির অমীয় সূধায় বিশ্ব হোক শান্তিময়- বড়দিনে সেই প্রার্থনাই সব ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানদের পাশাপাশি শান্তিপ্রিয় মানুষের।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading