মাদককে দুষ্প্রাপ্য করেছি র্যাব ডিজি
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫০
র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘দুই বছর আগে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, অনেকে ভাবতো মাদক থেকে আমাদের পরিত্রাণ নেই। তখন এমন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, ৫০ টাকা দিয়েও ইয়াবা কিনতে পাওয়া যেতো। যত্র-তত্র মাদক বিক্রি হতো। আর মাদক তখন দ্রুত বড়লোক হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। গত বছর র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশ দিলেন, ওইদিন রাত থেকেই আমরা অভিযান শুরু করি। আজ দেশবাসীর সহযোগিতায় মাদককে দুষ্প্রাপ্য করেছি আমরা।’ গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মাদকবিরোধী সচেতনতার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিচ ম্যারাথন’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘মাদকের বিরুদ্ধে দৌড়াও বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১০ কিলোমিটার এ বিচ ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন পটুয়াখালী ও বরগুনার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজার শিক্ষার্থী। র্যাব ডিজি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধার করে মাদক দমন সম্ভব নয়। যতোদিন ডিমান্ড থাকবে ততোদিন কোনও না কোনোভাবে সাপ্লাই আসবেই। সাপ্লাই বন্ধ করতে হলে ডিমান্ড বন্ধ করতে হবে। তাহলে এমনিতেই সাপ্লাই কমে আসবে। সেই সঙ্গে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকে, তাহলে আমি মনে করি মাদক নির্মূল হতে বাধ্য।’ কক্সবাজার ইয়াবা প্রবেশের সিংহদ্বার মন্তব্য করে বেনজীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আমরা গতবছর সেখানে একটি অ্যাডহক ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৫ প্রতিষ্ঠা করি। এ বছর এ ব্যাটালিয়নের সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেছে। এই এক বছরে কক্সবাজার র্যাব ব্যাটালিয়ন প্রায় ৪০ লখেরও বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে, গুলাগুলিতে নিহত হয়েছে পাঁচ-ছয় জন।’ রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বহুমুখী নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি করেছে মন্তব্য করে বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একটা ছোট অংশ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একশ্রেণির রোহিঙ্গা রয়েছে তারা এতো ডেসপারেট যে জিরো লাইন অতিক্রম করে, মাইন উপেক্ষা করে মাদক নিয়ে আসে। আমরা শুধু ব্যবসায়ীদের ধরেই ক্ষান্ত নই, যারা অর্থায়ন করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা এপার-ওপার করে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘যখনই আমরা কক্সবাজারে একটা শক্ত অবস্থান নিয়েছি, তখনই কুয়াকাটা-বরিশাল-খুলনা অঞ্চল দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের চেষ্টা চলছে।

