টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৩২
টানা পাঁচদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে সিরাজগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে পুরো সিরাজগঞ্জ।শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে কর্মজীবী, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষগুলোর দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি শীতবস্ত্রের সংকটে কষ্টে দিনাতিপাত করছে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্ররা। এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন দেখা গেছে পুরো শহর। ৫০ মিটার দূরত্বের জিনিসও দেখা যাচ্ছিরো না। দুপুরে এক ঝলক রোদের আলো চোখে পড়লেও কুয়াশা একেবারে ছাড়েনি। দুপুর গড়িয়ে পড়লে আবারও ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো শহর। গত পাঁচদিন ধরেই এমন অবস্থা চলছে। শহরের রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম, জুয়েল রানা ও কামরুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে গত তিনদিন ধরে কাজে বেরোতে পারিনি। টানাটানির সংসার তাই গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাধ্য হয়ে কাজে বের হয়েছি। কিন্তু শহরে লোকজন খুব কম বেরিয়েছি। এ কারণে সহসাই যাত্রীর দেখা মিলছে না।সবজিবিক্রেতা ইসহাক আলী, মুজিবর রহমান ও ছাখায়াত হোসেন বলেন, কাকডাকা ভোরে সবজি নিয়ে বাজারে এলেও গ্রাহকের পরিমাণ খুবই কম। শীতের দাপটে মানুষ ঘর থেকেই বের হচ্ছে না। এ কারণে কেনাবেচাও অনেক কম হচ্ছে। যমুনার চরাঞ্চল অধ্যুষিত কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম ভূঁইয়া প্রচণ্ড শীতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। হতদরিদ্র নদী ভাঙনকবলিত মানুষগুলোর শীতবস্ত্রের অভাব রয়েছে। চৌহালীর বাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার আকন্দ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া ৪শ কম্বল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার চেয়ে একেবারেই নগন্য। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র বলেন, শীতের প্রকোপে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ রোগে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে ফুসফুসের সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া রোগীরে প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এসব রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১শ ১৬ জন নিউমোনিয়া ও ফুসফুসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়াও ডায়রিয়া ও আমাশয়জনিত রোগীর সংখ্যায় বেড়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

