সেলুলয়েডে বীরাঙ্গনার জীবন
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন সংস্করন । ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ১৫:৩০। আপডেট ১৬:২০
চলতি বছর চলচ্চিত্রের বাজার খুব একটা ভালো যায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি ছবি ছাড়া সেভাবে আর ব্যবসার মুখ দেখেনি কোন ছবি। বছরের একদম শেষ দিকে এসে মুক্তি পেয়েছে আরও একটি ছবি। যা ইতমধ্যেই চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন দেখার পালা কতটুকু ব্যবসার মুখ দেখে ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’ ছবিটি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা মাসুদ পথিক পরিচালিত ছবিটি মাত্র ৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনই (২৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে এর প্রিমিয়ার শো। ছবিটি দেখতে আসেন বিভিন্ন অঙ্গনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।ছবিটিতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা এদেশের নারীদের ওপর যে পাশবিক-অমানুষিক নির্যাতন করেছেন, তা একটি বীরাঙ্গনা চরিত্রে মধ্য দিয়ে ছবিটি ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। একজন বীরাঙ্গনার জীবন, সংসার এবং তার অতীতের বিভিন্ন দিক ‘মায়া’তে উঠে এসেছে। বীরাঙ্গনার বড় সন্তান একজন যুদ্ধশিশু, যে নিখোঁজ- মায়ের খোঁজে আছে সে। তার ছোট মেয়ে মায়া। মা বীরাঙ্গনা হওয়ায় সংসার ভেঙ্গে যায় মায়ার। মায়ের সংসারই মায়া ও তার দুই সন্তানের সংসার। বাড়িতে আশ্রিত আছে আরেক যুদ্ধশিশু, যার সঙ্গে মায়ার প্রেম। এদিকে গ্রামের চেয়ারম্যান, ইমাম সকলের নজর মায়ার শরীরে। এসবের মধ্যেই চলতে থাকে মায়ার জীবন সংগ্রাম। কৃষিকাজ করে সংসার চালায় মায়া। হালচাষ, পশুপালন থেকে শুরু করে ঘরের কাজ সবই সামলায় মায়া। সমাজের কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে একঘরে হয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচে আর নিজের যুদ্ধ চালিয়ে যায় মায়া। তবুও একদিন সমাজের অন্যায়-নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় সন্তানসম্ভবা মায়া। এককথায়, একজন বীরাঙ্গনার জীবনের করুণ গল্পের মধ্য দিয়ে বাংলার রূপবৈচিত্র্য, প্রেম ও সমাজ বাস্তবতার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে ‘মায়া’তে। শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকর্ম ‘ওমেন’এবং কবি কামাল চৌধুরীর ‘যুদ্ধশিশু’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন, মুমতাজ সরকার (ভারত), প্রাণ রায়, জ্যোতিকা জ্যোতি, দেবাশিষ কায়সার, সৈয়দ হাসান ইমাম, ঝুনা চৌধুরী, নারগিস আক্তার, লীনা ফেরদৌসী, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, আসলাম সানী ও মজিদ প্রমুখ।

