নীরবতা ভাঙলেন সাঈদ খোকন ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তে খুশি’
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ । আপডেট ১৮:৫২
আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে একদিন নিশ্চুপ ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। সেই নিরবতা ভেঙে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে আসেন তিনি। বললেন, ‘অভিভাবক’ হিসেবে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে তিনি খুশি। তার ভাষায়, আমি আগে বলেছিলাম, আমার নেত্রী আমার জন্য যেটা ভালো মনে করবেন, তিনি সেটা করবেন। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা যেটা ভালো মনে করেছেন, তিনি আমার জন্য সেটা করেছেন। আমি খুশি মনে বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ।
এর আগের দিন রোববার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম থাকলেও দক্ষিণে সাঈদ খোকনের বদলে নৌকার প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। দলের ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর চুপসে গিয়েছিলেন মেয়র খোকন। ওই দিন সাংবাদিকদের কোনো প্রতিক্রিয়াও দিতে চাননি তিনি। একদিন বাদে সোমবার ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবনে সাংবাদিকদের ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান মেয়র খোকন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমি বলেছিলাম রাজনীতিতে আমি আমার বাবার হাত ধরে এসেছি। রাজনীতিতে আমার বাবাকে আমি হারিয়েছে। আমার বাবার অনুপস্থিতিতে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমার অভিভাবক। আমি আবারও বলছি, আমার নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমি খুশি মনে, হাসি মনে মেনে নিয়েছি। তিনি যেটা আমার জন্য ন্যয্য মনে করেছেন, ভালো মনে করেছেন তিনি সেটা করেছেন।
এবার কেন দলের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হলেন- সাংবাদিকদের প্রশ্নে সাঈদ খোকন আবারও বলেন, বিন্দুমাত্র সে ব্যাপারটার দিকে আমি লক্ষ্য করছি না। আমার নেত্রী আমার জন্য যেটা ভালো মনে করেছেন, উনি সেটা করেছেন। আমি খুশি, আলহামদুলিল্লাহ।
এবারের প্রার্থী ফজলে নূর তাপস তার নির্বাচন বৈতরণী পারে বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকনের সমর্থন চেয়েছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে খোকন বলেন, এখানে দ্বিচারিকভাব একেবারেই নেই। কারণ আমার যিনি অভিভাবক, তার দিক- নির্দেশনা অবশ্যই আমার প্রয়োজন রয়েছে। আমার ঢাকাবাসী, আমার ঢাকাবাসী মুরুব্বিয়ান, যাদের হাত ধরে আজ আমি এখানে এসেছি তাদের পরামর্শের আমার প্রয়োজন আছে। আর আপনারা এও জানেন যে, আমি পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। সেখানে আইনগত অনেক বিষয় রয়েছে। আমরা আলাপ-আলোচনা করে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাব।
আচরণবিধি অনুযায়ী, মেয়র হিসেবে সাঈদ খোকন আগামী ১৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে রয়েছেন। মন্ত্রীর মর্যাদায় মেয়রের দায়িত্বে থাকা সাঈদ খোকন নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রচারে নামতে পারবেন না। মেয়র হিসেবে নিজের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেন খোকন।
নিজের আত্মপর্যালোচনায় খোকন বলেন, আমি বলি যে, কতগুলো মৌলিক সমস্যার সমাধান আমি করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমি অনেকটাই সফল হয়েছি। আমি মানুষ, আমি ফেরেশতা না। আমার ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। আমি ১০টা কাজ করি ১০টাই যে আমি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি, এমন কিন্তু না। আমার ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কী কী প্রকল্প চলমান বা অসমাপ্ত থাকছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, জল-সবুজের ঢাকা যে প্রকল্পটি আছে, সেটির ৮০-৯০ শতাংশ হয়ে গেছে, আশা করি আগামী মাস তিনেকের মধ্যে জল-সবুজের ঢাকা প্রকল্প শেষ করতে পারব। এছাড়া আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে, এগুলো এই সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে আসবে। আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। চলমান প্রকল্পগুলো পরবর্তী মেয়র শেষ করবেন বলে আশা রাখছেন ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান মেয়র।
এ প্রসঙ্গে সাঈদ খোকন বলেন, জনগণের ভোটে নবনির্বাচিত যে মেয়র আসবেন, ইনশাল্লাহ বাকি কাজগুলো তিনি সমাপ্ত করবেন। একজনের পক্ষে তো সমস্ত কিছু হয় না, কিছু প্রক্রিয়াধীন থাকে। আমি শুরু করে দিয়ে গেলাম, কিছুটা কাজ করে দিয়ে গেলাম। বাকি কাজ যিনি আসবেন তিনিই করবেন। এটাই প্রক্রিয়া, এভাবেই আমাদের শহর এগিয়ে যাবে, এভাবে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন বলে দাবি করেন বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন। পরবর্তী মেয়রকে সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মেয়র হানিফপুত্র মেয়র খোকন।

