পুলিশের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ৫
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১০:৫০
বগুড়ায় জুতা পায়ে শহীদ মিনারে দাঁড়ানো ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পাঁচ সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১ জানুয়ারি) বগুড়ায় শোভাযাত্রার আগে শহীদ মিনারে জুতা পায়ে প্রবেশ করে। এতে বাধা দেয়ায় ছাত্রদলের হামলার শিকার হতে হয় পুলিশকে। এসময় বিএনপি দলীয় দুই সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বগুড়া শহরের সাতমাথা সংলগ্ন শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশরাফুল ইসলাম এবং পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল পারভেজ, সিফাত ও মামুন। পারভেজকে বগুড়া পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ২০ কর্মীকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বগুড়ায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ছাত্রদলকে। কিন্তু সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা বেলা ১১টা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জি এম সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান লালুসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা বের করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পাঁচ পুলিশ সদস্য জুতা পায়ে শহীদ মিনারে না উঠতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দলীয় দুই এমপির সামনেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এসময় লাঠির আঘাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নাক ও মুখ ফেটে দিয়ে রক্ত বের হয়। আর কনস্টেবল পারভেজের মাথা ফেটে যায়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সদর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জিলালুর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন।
বগুড়া-৬ আসনের এমপি জি এম সিরাজ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, শহীদ টিটু মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ আয়োজনের জন্য জেলা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও মেলেনি। পরে পুলিশ ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জমায়েত হওয়ার অনুমতি দেয়। নেতা-কর্মীরা সেখানে জমায়েত হওয়া শুরু করলে পুলিশ নেতা-কর্মীদের শহীদ খোকন পার্কে যেতে বলে। সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই উসকানিমূলকভাবে পুলিশ লাঠি হাতে মারমুখী আচরণ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

