পেঁয়াজের কেজি আবারও ২০০
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৩ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ১০
অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পর বাজারে নতুন পেঁয়াজ ওঠা ও আমদানিতে ভর করে দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও চড়েছে এ খাদ্যপণ্যের দাম। শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে খুচরায় দেশি নতুন পেঁয়াজের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা রাখা হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১০০-১১০ টাকা ছিল। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, বৃহস্পতিবারও ১১৫ টাকা করে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আজ হঠাৎ ১৮০ টাকা হয়ে গেল। এর পেছনে কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেও তা জানেন না বলে জানান। একই মার্কেটে অপর দোকানি দেশি বড় সাইজের পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন। কারণ, জানতে চাইলে তার মুখে কোনও উত্তর ছিল না।
তবে ফের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পেছনে বৃষ্টির অজুহাত দিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, শীত মওসুমে সারা দেশে আকস্মিক বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় হাট-বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে, যাতে দাম বাড়ছে। যদিও এটিকে অজুহাত হিসেবেই দেখছেন ক্রেতারা। ক্ষুব্ধ অনেকে বলছেন, আসলে সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা যখন যা খুশি তাই করছে।
শুক্রবার সকালে মিরপুর পীরেরবাগ কাচাবাজারের মুদি দোকানি আলমাস হোসেন বলেন, দুই দিন আগেও দেশি নতুন মওসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতিকেজি ১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু সকাল বেলা পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দেখি দাম উঠে গেছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। ওই দামেই পেঁয়াজ কিনে আনতে হয়েছে। তাই এখন আর ১৮০ টাকার কমে পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
গেল সপ্তাহে চীন ও মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতিকেজি ৪৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়। তবে এই সপ্তাহে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা লতিফ হাওলাদার বলেন, গত সপ্তাহে মিশরীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা ছিল এই সপ্তাহে তা বিক্রি করছেন ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায়। কারণ গত দুই দিন ধরে দাম বেড়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় হতে দেখা যায়।
বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে টমেটো ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধা কপি প্রতিটি ৩০-৪০ টাকা, শিমের কেজি ৫০-১০০ টাকা, মুলা ২০-৩০ টাকা, বেগুন ৫০-৮০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, মটরশুটি ৬০ টাকা, খিরা ৪০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়।
ফার্মের ডিম আগের মতো প্রতি ডজন ৯০-৯৫ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১২৫ টাকা আর সোনালি মুরগি ২২০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।

