ফাদার মারিনো রিগনকে নিয়ে চলচ্চিত্র
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১০:৫৬
বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগনের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত হবে ‘দ্য ফাদার: অ্যান আনটোল্ড স্টোরি’ চলচ্চিত্র। কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের চিত্রনাট্যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন নির্মাতা হেমন্ত সাদীক। বাংলাদেশ-ইতালির যৌথ প্রযোজনায় চলতি বছরের মাঝামঝি সময়ে শুরু হবে ছবিটির কাজ। যার অধিকাংশ দৃশ্যধারণ হবে বাংলাদেশের খুলনা, মোংলা ও যশোর অঞ্চলে। ছবিটিতে এখনও কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী চূড়ান্ত হয়নি।
মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে থিতু হন এবং সেখানে চার্চ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার কাজ ধর্ম প্রচারের গণ্ডির মধ্যে থেমে থাকেনি। বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবা ও দুঃস্থ নারীদের উন্নয়নে তিনি সব সময় উদ্যোগী ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল তার অকুণ্ঠ সমর্থন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিতে নিজের চার্চে তিনি গোপনে একটি চিকিৎসা ক্যাম্প খোলেন। সেই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ফিরে গেছেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রমও তাদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে ফাদার মারিনো রিগনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়। ২০১২ সালে তাকে দেওয়া হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতাধিত বই সরাসরি বাংলা থেকে ইতালিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেছেন। অনুবাদ করেছেন লালনের ৩৫০ টি গানও।
তার উদ্যোগে ইতালিতে একাধিক বাংলা নাটক ও নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের নামে ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করেছেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ৯২ বছর বয়সে জন্মস্থান ভিসেনজায় মৃত্যু হয় তার। তার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়; ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর মংলার শেলাবুনিয়ায় সমাহিত করা হয়।

