ন্যায়বিচারে সবকিছু করব: ভিসির আশ্বাস
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৭ঃ৫০
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে ন্যায়বিচার দিতে অভিভাবক হিসেবে যাবতীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। রাজধানীর শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামলে ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একব্যক্তি ধর্ষণ করে। নির্যাতিত ছাত্রী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
ওই ঘটনায় ক্যাম্পাসে আন্দোলন ও দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টির মধ্যে সোমবার (৬ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন ছাত্রীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে ঢাবি ভিসি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমরা মর্মাহত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ছাত্রীটির পাশে আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। তাকে মানসিকভাবে শক্ত ও সমর্থ করে তোলাই আমাদের প্রধান কাজ। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োজন তাই করা হবে। তাকে মনে রাখতে হবে, সে আমাদের মেয়ে। আশা রাখি তার মনোবল শক্ত থাকবে।
এ ঘটনায় ঢাবি কর্তৃপক্ষ কোনও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানায় ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই মামলা করতো। ভিসি আখতারুজ্জামান আরও বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর আছে। দ্রুততম সময়ে দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য তাদের অনুরোধ করেছি।
ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বিক্ষোভ শুরু হয় ক্যাম্পাসে। দফায় দফায় মিছিল-সমাবেশ করে বিভিন্ন সংগঠন। ভোরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন এক ছাত্র। সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্য এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
এদিকে, ধর্ষণের ওই ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ডাকসু সহ-সভাপতি নুরুল হক নূর। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের ‘আইওয়াশমূলক’ কথা না বলে ধর্ষকের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করলে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ছেড়ে দেবে না। ঘটনার পর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও বাম সংগঠনগুলো শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। সেখানে কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন ভিপি নূর। সম্প্রতি ডাকসু ভবনে তার উপর হামলার ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে বিচারের আশ্বাসের পর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জড়িত অন্যরা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযোগ করে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য ভিপি নুর বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটলেই আইওয়াশমূলক বক্তব্য না দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় ছাত্র জনতা সবাই এই ধরনের ঘটনাগুলো প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে।
শাহবাগের অবরোধ কর্মসূচিতে ভিপি নূরের সঙ্গে ছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, মশিউর রহমান, স্বতন্ত্র জোটের নেত্রী শামসুন নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম ইমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সভাপতি আবু সালমান সিদ্দিক প্রমুখ। পরে দুপুর দেড়টার দিকে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে রাজু ভাষ্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। কর্মসূচি থেকে অপরাধীদের খুঁজে বের করে চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেওয়া হয়।

