সোলেইমানির জানাজায় জনতার ঢল, কাঁদলেন খামেনি

সোলেইমানির জানাজায় জনতার ঢল, কাঁদলেন খামেনি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২০ঃ১৫

নিহত ইরানের সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির জানাজায় সোমবার (৬ জানুয়ারি) দেশটির রাজধানী তেহরানের রাস্তায় জনতার ঢল নেমেছিল। তার জানাজায় উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি। জানাজায় অংশ নেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান ইসমাইল হানিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয় ইরানের কুদস প্রধান সোলেইমানিকে। তার জানাজার নামাজের ইমামতি করেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতে দেখা যায়।

সোলেইমানি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান এবং তারা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে নিজের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ৬২ বছর বয়সি সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক অভিযানের প্রধান ছিলেন এবং যাকে আমেরিকা একজন সন্ত্রাসী হিসেবেই দেখতো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্য হলো, সোলেইমানি মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরাক ও ওই অঞ্চলের অন্য জায়গায় থাকা মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর “আসন্ন এবং ভয়াবহ হামলার ষড়যন্ত্র” করছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, তেহরানের রাস্তায় বিশাল জনসমাগম হয়েছে সোলেমানির জানাজা ঘিরে। সোলেইমানিকে দেশটিতে জাতীয় নায়ক এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। জানাজায় অনেক মানুষকেই কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সোলেইমানির ছবি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। মানুষ জানাজা শেষে সোলেইমানির কফিন মাথার ওপর দিয়ে বয়ে নিয়ে চলে এবং “আমেরিকার মৃত্যু” বলে স্লোগান দিতে থাকে।

এর আগে সোলেইমানির মেয়ে জয়নাব সোলেইমানি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র “কালো দিন” দেখবে। জয়নাব বলেন, ‘পাগল ট্রাম্প, তুমি ভেবো না যে, আমার বাবার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।’

সোমবারের তেহরানে ওই জানাজার পর, জেনারেলের মরদেহ শিয়া ইসলামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোমে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার কেরমানে তার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরানে সোলেইমানির পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রূহানি বলেন, আমেরিকানরা আসলেই বুঝতে পারেনি যে, তারা কত বড় ভুল করেছে। এই এলাকার ওপর থেকে যেদিন আমেরিকার নোংরা হাত কেটে ফেলা হবে, সেদিনই তার রক্তের বদলা পূরণ হবে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া: এর আগের দিন রবিবার ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কোন শর্ত তারা আর মেনে চলবে না। ওই চুক্তিতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে ইরান পরমাণু সক্ষমতা কমাতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এক বিবৃতিতে, ইরান বলেছে যে, পরমাণু সমৃদ্ধকরণের সামর্থ্যে মাত্রায় মজুদ করায়, গবেষণা বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে আর কোনও সীমাবদ্ধতা মানবে না। এই চুক্তির তিন ইউরোপীয় দেশ জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন ইরানকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

অপরদিকে, রবিবার ইরাকের পার্লামেন্টে এমপিরা বিদেশি (মার্কিন) সেনাদের দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এর আগে, ইসলামিক স্টেট গ্রুপকে পরাজিত করতে সহায়তা করার জন্য মার্কিন বাহিনীকে ইরাকে স্বাগত জানানো হয়। ইরানের কুদস বাহিনীর নতুন প্রধান- যার নেতৃত্বে সোলেইমানি ছিলেন- তিনি আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading