শিশুর অপুষ্টিরোধে আইসিডিডিআরবি’র যুগান্তকারী উদ্ভাবন
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৬:০২
বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও হাজার হাজার শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার। কখনও কখনও দেখা যায়, স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরও অপুষ্টিতে ভোগে শিশু। এ নিয়ে পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। তাদের জন্য এবার সুখবর নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। নতুন এক গবেষণার মাধ্যমে শিশুর অপুষ্টিরোধে যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।
আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংস্থাটির একদল বিজ্ঞানী গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার করেছেন যে, পেটে উপকারী মাইক্রোবায়োটা বা ব্যাকটেরিয়ার অপরিপক্বতার কারণে শিশুরা পুষ্টিহীনতার সমস্যায় ভোগে। কিন্তু কলা, সয়া, চাইনিজ বাদাম এবং ছোলা দিয়ে অল্প খরচের সহজলভ্য একটি খাদ্য পরিপূরক শিশুদের খাওয়ালে এ অপুষ্টিজনিত সমস্যা কাটতে পারে। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ জীবন বাঁচানো খাবার স্যালাইনের মতোই এই খাদ্য পরিপূরকটিও ঘরে বসেই তৈরি করা যাবে বলে জানিয়েছেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা।
এক দশকের দীর্ঘ গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আইসিডিডিআর,বির পুষ্টি বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে, শিশুদের নির্দিষ্ট কিছু সহজলভ্য খাবারের বিশেষ মিশ্রণ খাওয়ালে সেই অপরিণত ব্যাকটেরিয়া পরিণত হয়। সেগুলো শিশুদের শারীরবৃত্তীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে ও ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। ফলে সহজেই শিশুদের অপুষ্টি দূর করা যায়। এভাবে শিশুর ঠিক মতো বেড়ে না ওঠা, মস্তিষ্কের বিকাশ না হওয়া, উচ্চতা অনুযায়ী যথাযথ ওজন না হওয়ার মতো সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
আইসিডিডিআর,বির পুষ্টি ও ক্লিনিক্যাল সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এ গবেষক দলের প্রধান অনুসন্ধানকারী। এ দলে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত গবেষক অধ্যাপক জেফরি গর্ডনও ছিলেন।
আইসিডিডিআর,বি বলছে, অপরিণত ব্যাকটেরিয়াই যে অপুষ্টিজনিত সমস্যার জন্য দায়ী- এটি একটি নতুন উদ্ভাবন, যেটা ভবিষ্যতে প্রচলিত অপুষ্টি দূর করার কার্যক্রমগুলোকে আমূল বদলে দিতে পারে। আইসিডিডিআর,বির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে তীব্র অপুষ্টির শিকার সারে চার লাখ শিশু এবং প্রায় দুই কোটি শিশু মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার।

