প্রথা ভেঙে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট দেয় ব্রিটিশ পুলিশ: ড. কামাল

প্রথা ভেঙে বঙ্গবন্ধুকে স্যালুট দেয় ব্রিটিশ পুলিশ: ড. কামাল

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১০ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ১০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বজুড়ে কেমন সম্মানের জায়গায় আসীন হয়েছিলেন, তা বোঝাতে পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পথে লন্ডন বিমানবন্দরে এক ব্রিটিশ পুলিশের তাকে স্যালুট দেওয়ার কথা তুলে ধরলেন ড. কামাল হোসেন। বঙ্গন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে এক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এ কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা যখন (মুক্তি পেয়ে পাকিস্তান থেকে) লন্ডনে এয়ারপোর্টে নামলাম, তখনকার একটা স্মৃতি আমার খুব স্মরণীয়। আমরা যখন ঢুকছি, ব্রিটিশ পুলিশ একদম স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে- সেখানে আমরা ঢুকব। এক পা বাড়িয়ে স্যালুট দিয়ে তার চোখ দিয়ে প্রায় পানি পড়ছে। বলছে যে, ‘স্যার উই হ্যাভ বিন প্রেয়িং ফর ইউ’ (আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছিলাম)। তখন বুঝেছিলাম বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাধারণ মানুষরা কীভাবে আমাদের স্বাধীনতার প্রতি সহানুভুতিশীল ছিল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি কী শ্রদ্ধা তাদের ছিল।

গণফোরামের সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আমরা যে সমর্থন পেয়েছিলাম তা দেখেছি- আমরা যখন প্রথম জাতিসংঘে গেলাম, সবাই বলছে, এই সেই শেখ মুজিব, সবাই শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তাকে- যা ভাষায় বলা যায় না।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। এরমধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নয়মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। এর ২৪ দিন পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। ওই ফ্লাইটে ছিলেন ড. কামাল হোসেনও। তবে মুক্তিযুদ্ধকালে এই আইনজীবীর পাকিস্তানে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ানোর জন্যই তাকে পাকিস্তানে রাখা হয়েছিল বলেও গুঞ্জন আছে।   

তবে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে যাত্রা করার স্মৃতিচারণ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, পাকিস্তান থেকে লন্ডনে যখন আমরা গেলাম, ১০ জানুয়ারির একটা স্মৃতি। আধা ঘণ্টা আগে তারা বলল যে, একটা মেসেজ। প্লেন থেকে বলবেন যে, প্লেন আসছে লন্ডনে নামতে চায়। এর মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছেন। নামও তোমরা বলবে না। এই মেসেজটা আমার কাছে দেয়া হলো যে, ওরা জানতে চাচ্ছে আসলে কি শেখ মুজিবুর রহমান আছেন নাকি প্লেনে এবং আমি বললাম যে, হ্যাঁ উনি আছেন। তখন তারা (যুক্তরাজ্য সরকার) বলল যে, এটা কনফার্ম করাতে উনাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আমরা সন্মানের সঙ্গে সংবর্ধনা দেব এবং আমরা রওনা দিচ্ছি এয়ারপোর্টের দিকে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, উনি বললেন, আমাকে দ্রুত বাংলাদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা কর। ওরা বলল যে, আমরা তো পাকিস্তানের প্লেনে ইন্ডিয়ার উপর দিয়ে ফ্লাই করতে পারি না। বললেন, অন্য দেশের প্লেন নাও, আমরা যে কোনো দেশকে বলব, জাতিসংঘকে বলব, প্লেনের ব্যবস্থা করা কোনো ব্যাপারই না। তখন উনি বললেন, আমরা লন্ডন হয়ে যাব। তখন সেই ব্যবস্থা করা হলো।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু অসাধারণ একজন। তার সেই নেতৃত্বের ফলে স্বাধীনতা সম্ভব হয়েছিল। আজকে আমাদের ৪৯ বছর হতে চলেছে। আমি আজকে শ্রদ্ধার সঙ্গে উনার কথা স্মরণ করি। উনার কীর্তির কথা স্মরণ করি। বাংলাদেশ যতদিন আছে, উনাকে সেভাবে মানুষ শ্রদ্ধা করবে। যে অনুপ্রেরণা উনি দিয়ে গেছেন, অন্যায়ের সাথে কোনো আপস করা যায় না। অন্যায় অন্যায়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করতে হবে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, উনাকে (বঙ্গবন্ধু) শ্রদ্ধা করতে হলে উনার সেই লেখাটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। ‍উনি যে আমাদের মালিক করেছেন, মালিকানা ছাড়তে পারি না। দেশের মালিক জনগণকে থাকতে হবে- এটি হলো স্বাধীনতার অর্থ। স্বাধীনতা মানে দেশের মালিক জনগণ, কোনো ব্যক্তির না। কোনো স্বৈরতন্ত্র থাকার অবকাশ নেই। গণতন্ত্র থাকবে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র। সকল জনগণ সেখানে মালিকের অবস্থানে থাকবে।জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণফোরামের উদ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস-২০২০’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। সভায় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বিার খান, মহসিন রশিদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading