‘ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে’ ক্ষণগণনায়

‘ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে’ ক্ষণগণনায়

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১০ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ১০

মুক্তিসংগ্রামে বাঙালির বিজয়ের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যেদিন দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সেই দিনেই শুরু হল তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষের’ ক্ষণগণনা। স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতার জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরুর এই মুহূর্তও ‘ঐতিহাসিক ক্ষণের’ মর্যাদা পাবে বলে মনে করছেন অনেকে। সেই উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকে শুক্রবার ঢাকার তেজগাঁওয়ের প্যারেড স্কয়ারে ছুটে এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সী মানুষ। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা।

বিকালে আগারগাঁওয়ে প্যারেড স্কয়ারের ৯ নম্বর ফটক দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিলেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা। তাদের সবারর হাতে ছিল আয়োজক কমিটির আমন্ত্রণপত্র। অনেকে আবার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের কপি হাতে করে এসেছিলেন।

গাজীপুর থেকে আসা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন গাজীপুর জেলার সভাপতি ইমরান হোসেন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে গণমাধ্যমকে বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছি। আমরা গাজীপুর থেকে একসাথে চারজন এসেছি, নিজেদের উদ্যোগে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে। আমি ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর নাতি। সঙ্গে আছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম সোহাগ ও তাদের রাজনৈতিক সহকর্মী মনজুরুল রিপন। অনুষ্ঠানে আসার পেছনের তাড়না তুলে ধরে এই তরুণ বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখি নাই, যুদ্ধও দেখি নাই। রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে শুনে শুনে এবং বই পুস্তক পড়েই উনার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে। সেই ভালোবাসা থেকেই এখানে আসা। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে নিজেদের গর্বিত বোধ করছি। আমাদেরকে যে এখানে আসার সুযোগ দেওয়া হইছে সেজন্য নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

একই প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রেশন করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুদ্দিন। তার সঙ্গে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফৌজিয়া নিজাম তামান্না। তাজুদ্দিন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের সুচনা লগ্নে, বিজয়ের কিছু দিন পর এই স্থানেই বঙ্গবন্ধু বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে হাজির হয়েছিলেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে তার ফিরে আসার একটা আবহ তৈরি করা হয়েছে। সাথে সাথে শুরু হয়েছে প্রিয় নেতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের দিনক্ষণ গণনা। ১৭ মার্চ তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার দিনটা স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমরা এখানে এসেছি। আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে বিজয়ী বীরের বেশে হাজির হয়েছিলেন। পূর্ণতা পেয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। সেই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এইদিনের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমি চলে আসলাম।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। আগামী ১৭ মার্চ তার জন্মশতবার্ষিকীতে শুরু হবে বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষের’ কর্মসূচি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর শুরু হয় বর্বর হামলা। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয় হলেও তখনও পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষ।

চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার মুক্তি দিলে যুদ্ধে বিজয়ের ২৪ দিন পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি নিজের স্বপ্নের স্বাধীন দেশে পা রাখেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। কাঙ্ক্ষিত সেই মানুষটির বাংলার মাটিতে পা রাখার মধ্য দিয়েই সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল। ঐতিহাসিক সেই দিনেই শুরু হল আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি শুরুর ক্ষণগণনা।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও তার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ ধরনের কর্মসূচি খুবই কার্যকর হবে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাজুদ্দিন বলেন, যে ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে; সেটা তার (বঙ্গবন্ধু) জীবনীনির্ভর। ফলে নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে শিশুরা তার সম্পর্কে জেনে তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। তরুণরা আরও উদ্দীপ্ হবে।

ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ধানমন্ডির নবদম্পতি শরফুল-নসাইবা। ইন্টার্ন চিকিৎসক নসাইবা বলেন, আমরা এই ক্ষণগণনা কর্মসূচি দেখতে এসেছি। আগে থেকেই রেজিস্ট্রেশন করে রেখেছিলাম। তাদের মতো আরও কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এদিন উপস্থিত হয়েছিলন ঐতিহাসিক ঘটনা সাক্ষী হতে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading