২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ: রবিকে ‘ধন্যবাদ’
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২০ঃ৫০
বিটিআরসির ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার নিরীক্ষা দাবির মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে প্রথম কিস্তিতে ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করায় মোবাইল ফোন অপারেটর রবিকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তারা (রবি) টাকা দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। দেশের আইন-কানুন মেনে ব্যবসা করতে হবে। রবি যে টাকা দিয়েছে এটা ‘আইসব্রেকিং’।
গত বছরের ৩১ জুলাই গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে চিঠি দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি। কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায় করতে না পেরে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয় দুই অপারেটরকে। কিন্তু বিটিআরসির দাবি করা টাকার ওই অঙ্ক নিয়ে বরাবরই আপত্তি জানিয়েছে দুই অপারেটর। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তিতে বিটিআরসি রাজি না হওয়ায় দুই কোম্পানি আদালতের দ্বারস্থ হয়।
এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গত ৫ জানুয়ারি বিটিআরসির ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার নিরীক্ষা দাবির মধ্যে ১৩৮ কোটি টাকা কিস্তিতে পাঁচ মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয় রবিকে। সে অনুযায়ী গত ১৪ জানুয়ারি বিটিআরসিকে প্রথম কিস্তির ২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা দেয় রবি। তবে সেদিনও এক বিবৃতিতে বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে ‘আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে’ জমা দেওয়া ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার আশার কথা বলে রবি।
এর আগে আপিল বিভাগ বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনকে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে গ্রামীণফোন তা দেয়নি। বরং তাদের মূল কোম্পানি টেলিনর রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।
সে প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আরও একটি কোম্পানির কাছে আমাদের পাওনা আছে। তারা কোর্টে গিয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা জনগণের টাকা। রাষ্ট্রের নিয়ম, বিধি, আইন মেনেই ব্যবসা করতে হবে। টাকা পরিশোধ করতে হবে। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তিনি বলেন, রবি নির্ধারিত তারিখের (৩০ জানুয়ারি) আগেই তাদের টাকার প্রথম কিস্তি পরিশোধ করেছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে।

