৪ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ‘মিল’ পেয়েছেন শাহদীন মালিক

৪ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ‘মিল’ পেয়েছেন শাহদীন মালিক

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২০ঃ৫০

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই দলের চার মেয়র প্রার্থীর এক জায়গায় মিল খুঁজে পেয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তারা সবাই ‘বিকট ধরনের কোটিপতি’। বাংলাদেশে সৎ পথে কোটি টাকার মালিক হওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে নির্বাচন নিয়ে এক আলোচনায় ড. শাহদীন মালিক এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণের যে প্রধান চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী, একটা কমন ফ্যাক্টর আছে তাদের চারজনের মধ্যে- বিকট ধরনের কোটিপতি। এখন শিল্পপতি, অন্যান্য বিভিন্নভাবে কোটিপতি…। সাংসদ হয়ে যে শত কোটিপতি হওয়া যায় বেশি বছর লাগে না, এ রকম উদাহরণ সৃষ্টিকারী লোকরাই এখন আমাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে!

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি তিনি। একই সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে। মাল্টিমোড গ্রুপের চেয়ারম্যান মিন্টু ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। আমেরিকা থেকে লেখাপড়া করে আসা তাবিথও মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালকদের একজন, ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন তিনি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের দেওয়া হলফনামায় আতিকের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৬৮টাকা। তাবিথের বার্ষিক আয় ৪ কোটি টাকার বেশি। আতিকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে কয়েক কোটি টাকার। বিপরিতে তাবিথের অস্থাবর সম্পদই ৪৫ কোটি টাকার ওপরে।

অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস শতকোটি টাকার মালিক। তার প্রতিপক্ষ বিএনপির মেয়র প্রার্থী ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনও কোটিপতি।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তাপসের বার্ষিক আয় ১০ কোটি টাকার উপরে, ইশরাকের বার্ষিক আয় কোটি টাকার কাছাকাছি।

এক সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর দায়িত্বপালন করা ড. শাহদীন মালিক বলেন, এই প্রার্থীদের একজন ব্যতীত কারও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু চারজনেরই কমন ফ্যাক্টর হলো, কোটিপতি। সো আমাদের আজকে গণতন্ত্র হয়েছে কোটিপতির গণতন্ত্র। আর কোটিপতি তো সৎ পথে কোটি টাকা বাংলাদেশে আয় করা যায় না, অসৎ পথে। তর্ক হতে পারে কতটা অল্প অসৎ, বেশি অসৎ ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, কোটিপতিদের জন্য দুঃখ-দুর্দশা, গরিবের জন্য কথা বলাটা অনেক সহজ। কারণ এই দুঃখ-দুর্দশা তাদের গায়ে লাগে না। সো আমরা কোটিপতিদের একটা প্রচারণামূলক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ভোটগ্রহণে ইভিএমের ব্যবহারের বিরোধিতা করে এটাকে ‘ক্ষমতাসীনদের ভোট কারচুপির’ নতুন পন্থা বলেও আখ্যায়িত করেন ড. শাহদীন মালিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএমের একটা প্রধান অবদান হবে, ভোটের দিন খুব অল্প সংখ্যক লোক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হবে। ভোটার উপস্থিত যত কম হয়, এই প্রতারণা করা, লোক ঠকানো, বিভিন্ন ধরনের কারচুপি সহজ হয়। আমার দৃষ্টিতে- এর পেছনে সৎ উদ্দেশ্য, সৎ নিয়ত, গণতন্ত্র, আমাদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা- এর কোনোটাই থাকতে পারে না।

স্বাধীনতা অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বব্যাপী ইভিএম প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। সংগঠনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুনিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস কে নোমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading