১৭২ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দিয়েছি: ইন্ডিয়া
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮:০৪
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৬ বছরে তিন প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার হিসাব দিয়েছে ইন্ডিয়া সরকার; এর মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছে ১৭২ জন।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রণয়নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রোববার (১৯ জানুয়ারি) চেন্নাইয়ে ‘প্রোগ্রাম অন সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট’ শীর্ষক এক সভায় ইন্ডিয়ার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এই তালিকা দেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। নির্মলা বলেন, গত ৬ বছরে পাকিস্তানের ২ হাজার ৮৩৮ জন, আফগানিস্তানের ৯১৪ জন, বাংলাদেশের ১৭২ জন শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুসহ কয়েকটি সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে গত ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ার হিন্দুত্ববাদী বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনে। এই আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হয়ে (মুসলিম ছাড়া) কেউ ইন্ডিয়ায় থাকার আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবে।
এই সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে ইন্ডিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হিন্দুসহ ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ইন্ডিয়ার বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১৯ লাখ মানুষ। আসামের বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন।
এদিকে নাগরিকত্ব দেওয়া তিন দেশের শরণার্থীদের মধ্যে মুসলমানরাও রয়েছে বলে নির্মলা সীতারমনের ভাষ্য। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা ৫৬৬ জন মুসলমান ইন্ডিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পী আদনান সামির নাম বলেন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা।
মানবিক কারণ দেখিয়ে ২০১৫ সালের ২৬ মে দেশটির নাগরিক হতে চেয়ে আবেদন করেন আদনান সামি। পরের বছরের শুরুতেই ইন্ডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদন মঞ্জুর করে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে যারা ইন্ডিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের অনেকে এখনও শরণার্থী শিবিরে রয়ে গেছে বলেও দাবি করেন নির্মলা। তিনি বলেন, গত ৫০-৬০ বছর ধরে তারা ক্যাম্পে থাকছে। এই সব ক্যাম্প ঘুরে দেখলে আপনি আবেগতাড়িত হবেন। শ্রীলংকার যেসব শরনার্থীরা ক্যাম্পেই জীবন যাপন করছে তাদের হালও একই রকম। তারা ন্যূনতম সুবিধাটুকুও পাচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা জানান, ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শ্রীলংকা থেকে আসা ৪ লাখেরও বেশি তামিলকে ইন্ডিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।
নির্মলার দাবি অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদী সরকারের ২০১৬-১৮ সময়কালে এক হাজার ৫৯৫ জন পাকিস্তানের অভিবাসী ও ৩৯১ জন আফগানিস্তানের মুসলমান ধর্মাবলম্বীকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। মানুষকে ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুবিধা’ দিতেই নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন মোদী সরকারের এই মন্ত্রী। নির্মলা বলেন, সরকার কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে না। বরং আমরা নাগরিকত্ব দিচ্ছি। ১০ বছর পর পর এনপিআর হালনাগাদ করা হয়। এর সঙ্গে এনআরসির কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ কেউ এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং কোনো ভিত্তি ছাড়াই মানুষকে উত্তেজিত করছে বলেও মনে করেন তিনি।

