অবৈধ সম্পদ: চট্টগ্রামের এজাজকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

অবৈধ সম্পদ: চট্টগ্রামের এজাজকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ০৫

অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা আর তদবির বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা নূর উর রশীদ চৌধুরী ওরফে এজাজ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

সরকারদলীয় হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর কথিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) এজাজ চৌধুরী পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের একটি হলো- শুধু চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতে চলা জুয়ার আসর থেকেই প্রতিদিন তার আয় ছিল ৫০ হাজার টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এজাজ চৌধুরী বলেন, হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। জুয়া বা ক্যাসিনো ব্যবসা কী তা-ও জানেন না তিনি। এজাজ বলেন, শত্রুতা করে কেউ তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা দিয়েছে। সে কারণেই ডাকা হয়েছে তাকে।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের কারণ জানতে চাইলে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, এজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। সে কারণেই তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি তলবি নোটিশ পাঠিয়ে ২১ জানুয়ারি দুদক প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল এজাজকে। নোটিশ পাঠান দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দুদক সূত্র জানায়, এজাজের পাশাপাশি তার বাবা আব্দুল মালেক, বড়ভাই সুলতান উর রশীদ চৌধুরী এবং স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের সম্পদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তথ্য চেয়েছে।

সূত্র জানায়, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও বিআরটিএতেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামেও অভিযান হয়। চট্টগ্রামের জুয়ার আসর পরিচালনার সঙ্গে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নাম আলোচিত হয়। ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হালিশহরে আবাহনী ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জুয়ার আলামত পাওয়া যায় সেখান থেকে। ক্লাবটির মহাসচিব হলেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। তবে র‌্যাবের অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ক্লাবগুলোর তাস খেলা বন্ধ করলে ক্লাবগুলো চলতে পারবে না।’ সামশুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের পর চট্টগ্রামের অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে যাদের নাম আলোচিত হয় তাদেরই একজন হলেন এজাজ চৌধুরী। গত ২৩ অক্টোবর অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সামশুল হক চৌধুরীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক।

দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুর দিকে সামশুল হক চৌধুরীর পিএস এজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ নম্বর ১৮১/২০১৯। এজাজের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয় গত নভেম্বরে। শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম অভিযোগ অনুসন্ধান করবে। পরে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নির্দেশে দুদক প্রধান কার্যালয় এজাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading