প্রেম খারাপ না, একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না: রাষ্ট্রপতি

প্রেম খারাপ না, একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না: রাষ্ট্রপতি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৩ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৭:২৮

মোবাইলের এই যুগে একসঙ্গে একাধিকজনের সঙ্গে প্রেমের প্রবণতা বেড়েছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, এর পরিণাম ভয়াবহ হচ্ছে। বিয়ে বিচ্ছেদ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, তোমাদের নিয়ে অনেক খারাপ কথা শুনি। মোবাইল নিয়ে প্রেম কর। প্রেম কর, খারাপ না। একলগে পাঁচজনের লগে কইরো না। একজনের লগে প্রেম কইরা ১৫ দিন পরে আরেকজনের লগে কর, এটাও করা ঠিক নয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তব্যে নিজের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

একাধিক প্রেমের পরিণাম খুব ভয়াবহ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর ফলে ডিভোর্সের হার অনেক বেড়ে যাচ্ছে। একটা বাচ্চা হওয়ার পরও ডিভোর্স হচ্ছে। তাহলে এই বাচ্চাটার পরিণতি কী? তাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছি? খুব দুঃখজনক। আমাদের কালচারে এমন হওয়ার কথা নয়। আমাদের কৃষ্টিতে এমন হওয়ার কথা নয়। এখন অহরহ হচ্ছে। একে গুরুতর সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক আবদুল হামিদ বলেন, এটা দূর করতে হবে। দূর করতে হবে তোমাদের। তোমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। যারা এমন করে তাদের অ্যাভয়েড করতে হবে।

হাতে হাতে স্মার্টফোন আসায় এখন যেকোনো ঘটনায় সমস্যার সমাধানের দিকে না গিয়ে ঢালাওভাবে ভিডিও করার প্রবণতা নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, রাস্তায় একটা গাড়ি এক্সিডেন্ট করল। আমরা হয়ত দাঁড়িয়ে আছি বা গাড়িতে… মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ল, আমরা গাড়ি থেকে নেমে বাঁচানোর জন্য গিয়েছি। এখন হোন্ডা যখন এক্সিডেন্ট করে তখন আগে ভিডিও করে। কেমনে পড়ল সেইডা ভিডিও করে, তাকে বাঁচাবে, সাহায্য করবে, তার মধ্যে নেই।

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কয়দিন আগে বনানীতে আগুন লাগল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেতেই পারে না, পাবলিকের ভিড়। সবাই ভিডিও করছে। হোয়াট ননসেন্স। এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। ছাত্রদের এসব বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনে বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ফাস্টফুড ও কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন আচার্য আবদুল হামিদ। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে  উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলেও সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় বা সব উদ্যোক্তাই যে নিয়ম নীতি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, তা নয়। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। কিন্তু এসব শিক্ষার্থী কী পরিবেশে কতটুকু শিখছে বা নিজেদেরকে কতটুকু যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে তাও বিবেচনা করতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্যিক মনোভাবাপন্ন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও অনেক লাভজনক খাত রয়েছে। আপনারা সেসব খাতে বিনিয়োগ করে নিজেরা লাভবান হতে পারেন। আবার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন। আমরা উচ্চশিক্ষার প্রসার চাই। তবে সার্টিফিকেট সর্বস্ব উচ্চশিক্ষা চাই না। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সু্ষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ইউজিসি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং উচ্চশিক্ষার গুণগুত মান নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিচালিত হতে না পারে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে এসে প্রতারণার শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, ফারইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন, উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল করিম চৌধুরী।

সমাবর্তনে ১ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুইজনকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, দুইজনকে ভাইস চ্যান্সেলর পদক, পাঁচজনকে ডিনস পদক এবং পাঁচজনকে ট্রাস্টি পদক দেওয়া হয়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading