ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ‘রক্তের’ বন্ধন: কাদের

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ‘রক্তের’ বন্ধন: কাদের

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৩ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৭:২৫

ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘রক্তের রাখীর বন্ধন’ বলে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ভারতীয় ঋণের আওতায় নেওয়া দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকার র‌্যাডিসন হোটেলে ওই অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ার হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তের রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্ডিয়া যে সারা দুনিয়ায় সলিডারিটি ক্যাম্পেইন করেছে, তা আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে চলমান সম্পর্কে কখনও কখনও টানাপোড়েনও ছিল। কিন্তু একথা আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমরা সেই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছি। আমাদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের যে দেয়াল ছিল, তা আমরা ভেঙে ফেলেছি। সম্পর্কের নতুন যাত্রা আমরা শুরু করেছি।

এজন্য দুই দেশের সরকার প্রধানদের কৃতিত্ব দিয়ে কাদের বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং ইন্ডিয়ার জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ডায়নামিক ক্যারিশমাটিক লিডারশিপের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিরাজমান কিছু সমস্যা আছে, সেখানেও আমরা যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমরা মনে করি, কোনো সমস্যাই সমাধানের অনতিক্রম্য নয় । বিশেষ করে যখন দুই প্রধানমন্ত্রীর বোঝাপড়া খুবই ভালো।

অনুষ্ঠানে রীভা গাঙ্গুলী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ইন্ডিয়া বর্তমানে বাংলাদেশকেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় একটি প্রকল্পের দুই প্যাকেজের বিজয়ী দরদাতা ভারতীয় কোম্পানি এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড-এর সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তিকৃত প্রকল্পটি হচ্ছে- আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থল বন্দর মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। এ সড়কের ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ভারতীয় দ্বিতীয় এলওসি থেকে জোগান দেওয়া হবে ২ হাজার ২৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আর বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ হাজার ৩১২ কোটি টাকা।

ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্পটির ১নং প্যাকেজে আশুগঞ্জ নদীবন্দর হতে সরাইল পর্যন্ত ১২ দশমিক ২১ কিলোমিটার সড়ক চার লেইনে উন্নীত করবে। প্রকল্পটির এই প্যাকেজটি ৫৭২ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় বাস্তবায়ন করবে। আর এ প্রকল্পটির দ্বিতীয় প্যাকেজে সরাইল হতে ধরখার পর্যন্ত ২৭ দশমিক ০৫৪ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৭৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। দুটি প্যাকেজ মিলে আশুগঞ্জ হতে ধরখার পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেইনে উন্নীত করা হবে মোট ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকায়। ভারতীয় কোম্পানি জেভি অব রাইটেসের সঙ্গে ১১৭ কোটি টাকার কনসালটেন্সি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, এসময় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading