৮৫ ভাগ জনগণের আস্থায় শেখ হাসিনার ওপর : আরআই

৮৫ ভাগ জনগণের আস্থায় শেখ হাসিনার ওপর : আরআই

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৬:৩০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনায় দেশের ৮৫ ভাগ মানুষ সন্তষ্ট বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল (আরআই)। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগ উত্তরদাতা জানায়, বর্তমান মেয়াদের প্রথম এক বছর আগের তুলনায় ভালো। জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৩ ভাগ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও জানায় আরআই।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রম’ সম্পর্কে পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল।

রিসার্চ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন, প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা কাজী আহমদ পারভেজ ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

জরিপের ফলাফল প্রকাশ করতে গিয়ে অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণে দেশবাসীকে তার ওপরে আস্থা রাখতে বলার প্রেক্ষিতে শতকরা ৮৬ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তারা তার (প্রধানমন্ত্রী) ওপর আস্থা রাখেন, মাত্র ৩ ভাগ আস্থাহীনতার কথা জানান এবং ১১ ভাগ মতামত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফলতার বিষয়ে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, সবচেয়ে কার্যকরী মন্ত্রণালয় হিসেবে শতকরা ৩০ ভাগ উত্তরদাতা শিক্ষা, ২৮ ভাগ উত্তরদাতা সড়ক পরিবহন সেতু, ৯ ভাগ উত্তরদাতা তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি এবং বাকিরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে বেছে নেন।

দক্ষতা ও সাফল্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন- যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (৩৬ ভাগ) এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি (২৯ ভাগ)। এতে বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ উত্তরদাতা বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনও আলোচনা করতেই চাননি, ২৫ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তষ্ট, মাত্র ৬ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির কার্যক্রমে সন্তষ্ট। এর মধ্য দিয়ে জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটির মনে হয়েছে, রাজনীতিতে বিএনপি গুরুত্ব হারাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও উত্তরদাতাদের মধ্যে আগ্রহ কম পরিলক্ষিত হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধীদল থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, ৩২ ভাগ মনে করেন দরকার নেই এবং ২০ ভাগ মতামত প্রদান করেননি। আরআই জানায়, দেশব্যাপী দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৮ হাজার ৩৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে পরিচালিত টেলিফোন জরিপে ৫ হাজার ৪শ’২৯ জন ফোন গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২ হাজার ২শ’ ৬৬ জন অর্থাৎ শতকরা ৪১ দশমিক ৭ ভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত প্রদান করেন।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্রের সুফল তৃণমূলে পৌঁছে দিতে আইনজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংবিধানের মর্মার্থ সাধারণ মানুষের কাছে অর্থবহ করে তুলতে আইনজীবীরা কাজ করে থাকেন। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামস্থ আইনজীবী অডিটোরিয়াম, আদালত ভবনে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ‘বার্ষিক ভোজ-২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল অন্যায়কে রুখে দিয়ে আইনজীবীরা যুগে যুগে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। সংবিধানকে সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আইনজীবীদের ঐক্যের বিকল্প নেই- কেননা ঐক্যেই জয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে। স্পিকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা সংবিধান। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তখনই দৃশ্যমান হবে যখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

আইন পেশায় নারী আইনজীবীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ. এস. এম. বদরুল আনোয়ার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ. কে. এম. আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন,মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান বক্তৃতা করেন।

মেয়র হলে ‘পর্দা তুলে দেবেন’ রুবেল

নির্বাচিত হলে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে নগর ভবনের দরজা থেকে পর্দা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সিপিবির মেয়র প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে রোববার (২৬ জানুয়ারি) ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি এ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার বিষয়ে রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে কর্পোরেশন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। কলসেন্টারে নাগরিকরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সিটি করপোরেশনের দরজায় কোনো পর্দা থাকবে না। সকল দরজার পর্দা খুলে ফেলা হবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র হবেন সম্পূর্ণ নাগরিকদের জন্য নিবেদিত।

তদবির প্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেশায় দন্ত চিকিৎসক এই প্রার্থী বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীরা কেউ এখানে আলাদা কোনো সুবিধা বা খবরদারি করার সুযোগ পাবে না। নাগরিকরাই সদা অগ্রাধিকার পাবেন এবং তাদের সেবায় করেপারেশন সদা নিয়োজিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পর্দা তুলে দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, পর্দা সরিয়ে দেওয়া প্রতীকী। অর্থাৎ পর্দা ঢাকা দিয়ে ভেতরে অন্ধকারে যে কাজকর্ম হয় এবং জনগণের প্রবেশাধিকার যে বন্ধ করা হয় সেটাকে বুঝিয়েছেন।

নির্বাচিত হলে নগরীর মানুষদের কর্মসংস্থান তৈরিতে নতুন উদ্যোগ নেবেন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ডেটাবেইজ তৈরি করবেন বলে জানান কাস্তে মার্কার এই প্রার্থী। যানজট ও দুষণমুক্ত সবুজ শহর গড়ার ‘মহাপরিকল্পনা’, ই-বর্জ্যসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন পদ্ধতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সরবরাহ নিশ্চিত, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশা নিধনের পরিকল্পনার তুলে ধরেন তিনি। ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত, বাড়িভাড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, হকার ও রিকশার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার জন্য মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়া ও প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলেছেন রুবেল।

ঢাকাকে ‘প্রাণহীন, নিষ্ঠুর, অবাসযোগ্য ও কারাগার’ হিসেবে বর্ণনা করে সিপিবি সভাপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানীর যে চিত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মননে ছিল তা গড়ে উঠেনি। এর জন্য দায়ী নৌকা ও ধানের শীষ। পরিস্থিতি বদলাতে তাদের আধিপত্যের অবসান দরকার বলে মনে করে সিপিবি। মানুষের জীবনকে অসুন্দর রেখে ঢাকার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেলিম বলেন, ঢাকাকে সুন্দর করতে হলে অসুন্দর, কলঙ্কযুক্ত নেতৃত্ব দিয়ে কোনো দিন সম্ভব হবে না। এই জন্য কমিউনিস্ট পার্টি একজন যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। ভোটারদের সবিনয় আহ্বান করছি, আপনারা কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে বৈষম্যহীন ঢাকা গড়ে তোলার সুযোগ নিন।

সিপিবির সাধারণ সম্পদক শাহ আলমসহ বাম জোটের শীর্ষনেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading