মাদকের বিরুদ্ধে বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৭ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ২০
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিপ্লব করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম সমাবর্তনে তার ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। একটি নীরব-সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রেরণাদায়ী অভিযান শুরু করতে হবে। মানুষকে ভালো করতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রেরণামূলক প্রচারণা চালিয়ে তোমদেরকে সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় দেশটা ধ্বংস হয়ে যাবে।
হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ডজনেরও বেশি নিষিদ্ধ ড্রাগসের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কুমিল্লা হচ্ছে দেশে মাদক পাচারের অন্যতম রুটগুলোর একটি। ‘তাই তোমাদেরকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে এবং তোমরা সেসব অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলো।’ সমাজে যাতে কেউ এই নিষিদ্ধ ড্রাগস ব্যবহার করতে না পারে সে লক্ষে রাষ্ট্রপ্রধান স্নাতকদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবদুল হামিদ, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে নতুন স্নাতকদেরকে শুধু তাদের নিজের স্বার্থের কথা জন্য চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় কল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত করো। রাষ্ট্রের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা, তোমরা কখনো অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা, ব্যক্তিগত সম্মানবোধ আর নৈতিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করবে না। বিবেকের কাছে কখনো পরাজিত হবে না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জনের স্থান। টাকা পয়সা রোজগারের জায়গা নয়। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে এমনকি অনেকে সর্বস্ব ত্যাগ করে তোমাদের লেখাপড়ার খরচ যোগায়। তাই খেয়ালের বসে বা লোভ-লালসায় পড়ে নিজেদের জীবন নষ্ট করবে না এবং পরিবার ও সমাজের জন্যও বিপর্যয় ডেকে আনবে না।
রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতকে মনে রেখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবে। মানবতার কল্যাণ করবে। জীবনের চড়াই-উৎরাই পথে হতাশ হবে না। বরং সাহসের সাথে মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রামগতিতে কৃষি বিপ্লবের ডাক দিয়ে বলেছিলেন, ‘সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি, মূলতঃ সংগ্রাম মাত্র শুরু হয়েছে। এবারের সংগ্রাম সোনার বাংলা গড়ে তোলার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে তোমরা বুকে ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে, এ প্রত্যাশা করি। কর্মজীবনে তোমরা সফল হও, সার্থক হও। তোমাদের ভবিষ্যৎ চলার পথ সাফল্যে ভরে উঠুক, এই কামনা করি। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সমাবর্তনে ৩ হাজার ৫৬১ জন স্নাতককে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অসাধারণ অবদানের জন্য ১৪টি স্বর্ণপদক ও ৫২টি ডিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী প্রমুখ সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন।

