চীনের পরিস্থিতি ভয়াবহ: মৃত শতাধিক, ৩০ প্রদেশে আক্রান্ত ৭ হাজার

চীনের পরিস্থিতি ভয়াবহ: মৃত শতাধিক, ৩০ প্রদেশে আক্রান্ত ৭ হাজার

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ২০

চীনের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই জটিল হচ্ছে। এরই মধ্যে শতাধিক মৃত ও প্রায় ৭ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬ জন হয়েছে। সেইসঙ্গে দেশটির ৩০টি প্রদেশে ৪ হাজার ৫১৫ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন একইদিন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ৯৭৬ জন রোগী গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন এবং ৬ হাজার ৯৭৩ জন রোগী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া ৬০ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। সোমবারের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৭৭১ নতুনভাবে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যাটি ২ হাজার ৭৭ জন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃতদের মধ্যে হুবেই প্রদেশের উহান শহরে আরও ২৪ জন রয়েছে। এছাড়াও ৫১৫ জন রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৯ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে চীনের বাইরেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও জার্মানিতে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। পুরো চীনজুড়ে বহু শহরে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভাইরাসটি এমন সময়ে ছড়ানো শুরু করল যখন চীনা নববর্ষ পালিত হতে যাচ্ছে। এই সময়টিতে লাখ লাখ চীনা জনগণ সাধারণত বাড়িঘর, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ব্যাপক ভ্রমণ করে থাকে। তবে ভাইরাস সংক্রমণ যাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য চীন সরকার নববর্ষের ছুটি তিনদিন বাড়িয়েছে।

আমেরিকায়ও কয়েকজনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটি তার নাগরিকদের চীনা ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে উহান যেই প্রদেশে সেই হুবেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। আরও কিছু দেশ জরুরি প্রয়োজন না হলে নাগরিকদের চীন ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশসহ আর কিছু দেশ উহানে আটকে পড়া তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও দেশটির সরকার অন্যদেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি ও ইউএনবি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading