ইশরাকের ইশতেহার: ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক ঢাকার প্রতিশ্রুতি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৮ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ২৯
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে ‘আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা’ গড়ে তোলার ১৬ দফা প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনী ইশতেহার সাজিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তার ভাষায়, আদর্শ শহর হচ্ছে সেই শহর- যেখানে চাওয়ার আগেই ‘উত্তম নাগরিক সেবা’ নাগরিকদের দুয়ারে হাজির হবে। সামাজিক, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধের চর্চা হবে সুদৃঢ়। মেয়র হওয়ার সুযোগ পেলে তেমন নগরই তিনি গড়তে চান।
অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, দুঃসময়ের ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলে নতুন করে স্বপ্ন সাজাবার জন্য পরিবর্তনের ডাক নিয়ে আমি আপনাদের খেদমতে হাজির হয়েছি।
ব্রিটেনের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আসা ইশরাক ‘গর্বিত ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সম্মিলনে’ ঢাকাকে সবার বাসযোগ্য একটি ‘বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মহানগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, সমন্বিত ও কার্যকর নগর সরকার ধারণা বাস্তবায়নে সক্রিয় উদ্যোগ নেবেন তিনি। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাজউকের মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে অঞ্চলভিত্তিক ‘অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান’ গ্রহণ করবেন, নাগরিক সেবার কর্মকাণ্ড ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।
মেয়রের দায়িত্ব পেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরজুড়ে মশার অভয়াশ্রম ঢাকার জলাশয়গুলো পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেবেন ইশরাক। ঢাকা ওয়াসাসহ রাজধানীতে সেবা প্রদানকারী সব সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুপেয় পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, পয়ঃনিষ্কান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও তিনি দিচ্ছেন।
যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফুটব্রিজ, চলন্ত সিঁড়ি স্থাপন, ওয়ান স্টপ বাস সার্ভিস চালু, আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক বাস ও স্কাইওয়ে নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিংয়ে ডিজিটাল পুশ বাটন চালু, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেইন, জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৫০ বছর মেয়াদী সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা রয়েছে ইশরাকের ইশতেহারে।
ইশরাক বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি অঞ্চলভিত্তিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করবেন। ওয়ার্ড ভিত্তিক ব্যায়ামাগারের আধুনিকায়ন করবেন। প্রত্যেক ওয়ার্ডে আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করবেন। প্রতিটি স্থাপনায় থাকবে মাতৃদুগ্ধ কক্ষ। নারীবান্ধব কম্প্রেহেনসিভ রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ কেয়ার এবং প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার করার পাশাপাশি কর্মজীবী নারী ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করার অঙ্গীকার রয়েছে তার ইশতেহারে।
সিটি করপোরেশনের সকল উন্মুক্ত উদ্যান, নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা, নিয়মিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, খেলাধুলার আয়োজন করা, ডিসিসির নিজস্ব জায়গায় বৃক্ষ ক্লিনিক, পোষ্যপ্রাণী ক্লিনিক করা, ছাদ-বাগান ও আরবান এগ্রিচালচারে নাগরিকদের উৎসাহ দেওয়ার কথাও ইশরাক বলছেন। বিএনপির এই প্রার্থী বলেছেন, দল-মত ও জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মহানগরীর সকল জাতি-গোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন।
মেয়র নির্বাচিত হয়ে নগরভবনে বসার সুযোগ পেলে প্রথম ১০০ দিনে কী কী করবেন- তারও একটি রূপরেখা ইশতেহারে দিয়েছেন ইশরাক। জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে এই সময়ের মধ্যে তিনি বাস্তবায়ন করবেন।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বলেন, আমি ঢাকার সন্তান, আপনাদেরই সন্তান, আপনাদের আপনজন। এই ঐহিত্যবাহী নগরীর সন্তান হিসেবে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ের বিশ্বমানের বাসযোগ্য আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে আমার নিজস্ব চিন্তা চেতনা, স্বপ্ন-ভাবনা ও প্রত্যাশার কাঠামো আপনাদের সমীপে তুলে ধরেছি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে তা আরো বাস্তব, প্রায়োগিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ইশরাকের ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পাধারার একাংশের সভাপতি নুরুল আমিন ব্যাপারী মঞ্চে ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যপক আখতার হোসেন খান, বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল কুদ্দুস, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শ্যামা ওবায়েদ, শিরিন সুলতানা, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গৌতম চক্রবর্তী, ফাহিমা আখতার মুন্নী, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, অনিন্দ্র্য ইসলাম অমিত, হাসান জাফির তুহিন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিক উদ্দিনও ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

