ভোট নিরাপদে হবে: সিইসি

ভোট নিরাপদে হবে: সিইসি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।৩১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ১০

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘নিরাপদে’ ভোট হবে- এই আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ‘নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভোটে দায়িত্ব পালন করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে। দুই সিটি করপোরেশনের ভোটার রয়েছেন ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন।

ভোটের আগের দিন শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে ৮টি করে মোট ১৬টি ভেন্যু থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম দেখতে উপস্থিত হন সিইসি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনাদের মাধ্যমে ভোটারদের আহ্বান জানাব- আগামীকাল (শনিবার) তারা যেন প্রত্যেকেই ভোটকেন্দ্র যান। ইভিএমে ভোটদানের ব্যাপারে আমাদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা তারা করবে। ইভিএমে ভোট দিয়ে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, এই আহ্বান আমি ভোটারদের প্রতি জানাই।

নুরুল হুদা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা বারবার বলেছি, তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, বারবার বলেছি, সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গীতে তারা দায়িত্ব পালন করবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, তাদেরকেও সেরকম ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা তাদের ‘ইচ্ছা ও সুবিধামত, নির্বিঘ্নে, বিনা বাধায়’ প্রচার চালাতে পেরেছেন দাবি করে সিইসি বলেন, এতে ভোটারদের মধ্যে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের আস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি মনে করি। আশা করি আগামীকালের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, অবাধ হবে, সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন কি না- এই প্রশ্নে সিইসি বলেন, এটা আমি বলতে পারব না। আস্থা-অনাস্থা তাদের মানসিকাতার ওপর, কে কীভাবে দেখে, সেটার ওপরে। আমরা কখনও কোনো পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করি নাই, করবও না। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে মত দিয়ে সিইসি বলেন, তাদেরই দেখতে হবে- কতখানি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন, এখানে আমার বলার কিছু নেই। এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এটা এখন আমি মনে করি না। নির্বাচন যখনই প্রতিযোগিতামূলক হয়, ভোটাররা বের হয়ে আসে।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, তারা যেন তাদের অবস্থান নিয়ে থাকেন। তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সৃষ্টি না করেন। ভোটার ভোট দেবে, ভোট দিয়ে চলে আসবে, ভোটারদের প্রতি যেন আস্থা রাখে। সুশৃঙ্খলভাবে তারা যেন নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন সিইসি কেএম নুরুল হুদা।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading