সরকারের কাছে ব্যাংকের পাওনা ২ লাখ কোটি টাকা

সরকারের কাছে ব্যাংকের পাওনা ২ লাখ কোটি টাকা

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ।০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ২১ঃ২০

কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক সরকারের কাছে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পাবে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী সংসদে প্রশ্নোত্তরে বলেন, সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক থেকে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ এই সময়ে নিট ঋণ গ্রহণ করেছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪টি উন্নয়ন সহযোগী দেশ/সংস্থার সাথে তিন হাজার ১২০ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের (দুই হাজার ৬২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা) ৩৪টি ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি ঋণ চুক্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ২০টি অনুদান চুক্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ১৬৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ/সহায়তার পরিমাণ দুই হাজার ৭১৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার (২৩ হাজার ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা)। বর্তমানে দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৬ জন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ঋণ হিসাব সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখ। আর ঋণের স্থিতি ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে কিছু তারল্য সংকট থাকলেও ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই। অবশ্যকীয় নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণ ও আবশ্যকীয় সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণের পরও তফসিলি ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এ তারল্যের পরিমাণ ২০১৯ সালের জানুয়ারির ৬৭ হাজার ৬০১ কোটি টাকা থেকে ৫৭.৯৫% বৃদ্ধি পেয়ে ডিসেম্বরে এক লাখ ৬ হাজার ১০১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

শেয়ারবাজারে দরপতনে ২০১০-১১ সাল থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১২ হাজার ৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঋণ আদায়ের হার কম হওয়ায় এবং প্রাইভেট সেক্টরে ঋণের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতও পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বিনিয়োগ করছে না। ফলে কিছু তারল্য সংকটে পড়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। টেবিলে উপস্থাপিত সরকারি দলের সদস্য মোঃ হাবিবর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২ লাখ,২৩ হাজার ৮৯২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। তিনি বলেন, এরমধ্যে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় ৬৩ হাজার ৩৮২ কোটি ১৬ লাখ, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ৮৭ হাজার ৬১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হয়েছে ৭২ হাজার ৮৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অংশ হতে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বিগত অর্থ বছরে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা । একই অর্থ বছরে ৪ হাজার ২ শ’ ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬ টাকা স্ট্যাম্প শুল্ক বাবদ আহরিত হয়। উৎসে কর কর্তন হার হ্রাস করার কারণে এবং সুদের হার কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বিদ্যমান ৩১টি প্রশানিক কর অঞ্চলের সাথে আরো ৩২টি প্রশাসনিক কর অঞ্চল সৃজন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশের উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৯টি সার্কেলের সাথে নতুন ১৮০টি সার্কেল অফিস স্থাপনসহ মোট ১৩৫৩টি সার্কেল অফিস স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সঠিক পন্থায় ডিজিটাল অর্থনীতিকে করের আওতায় আনলে এ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করা হলে ২০২৩ -২৪ অর্থ বছরে শুধুমাত্র আয়কর আদায়ের সম্ভাব্য পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় পার্টির সদস্য মসিউর রহমানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানান, ৭২টি দেশের সাথে মানি লন্ডারিং ও টেরোরিস্ট ফাইনান্সিং প্রতিরোধে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading