‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না’

‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না’

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ । আপডেট ১৮ঃ০৪

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত খেলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ক্ষতি করে না বলে দাবি করেছেন ঝিনাইদহ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান। তার ভাষ্যে, এটি মেডিকেল টেস্টে প্রমাণিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না, এমন বিধানও নেই। আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বিভিন্ন ওষুধ ফার্মেসিতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার সময় নাজমুল হাসান এ কথা বলেন। এ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হকের বাক্যবিনিময় হয়। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জাগো নিউজকে জানান, মেয়াদ শেষ হলে ওষুধ যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয় তার গুণগতমান নষ্ট হয়ে যায়, যা খেলে মানবস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে ৫-৭ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল। প্রায় এক মাস ধরে এই কমিশনে ওষুধ বেচা বন্ধ রেখেছেন বিক্রেতারা। এর বদলে তারা কোম্পানির এমআরপি দরে ওষুধ বিক্রি শুরু করেন, এতে রোগীর স্বজনদের নাভিশ্বাস ওঠে। এমন নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শহরের প্রায় ১৫টি ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে যায়। অভিযানে তিনটি ফার্মেসিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মণ্ডল, জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক জানান, ফার্মেসিতে কমিশন বাদে এমআরপি রেটে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় শহরের মাসুদ ফার্মাকে ২ হাজার টাকা, আক্তার ফার্মেসিকে ৫ হাজার ও তাজমহল ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সময় অন্যদের সতর্ক করা হয়, ভবিষ্যতে যেন এমন অনিয়ম না করা হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার বিষয়ে কথা বলার সময় ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত খেলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ক্ষতি করে না। এটি মেডিকেল টেস্টে প্রমাণিত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না, এমন বিধানও নেই। তবে সামাজিক নৈতিকতার জায়গা থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ না রাখাই ভালো।

enghillol

Leave a Reply