মৌলভীবাজারে প্রবাসীর মৃত্যু, স্বজনসহ ডাক্তার-নার্স কোয়ারেন্টিনে
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৩ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২২ঃ২১
মৌলভীবাজার শহরের কাশীনাথ সড়কে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে ব্রিটেন প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রবাসী ওই নারীর ও আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দা এবং তার চিকিৎসক-নার্সদের হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছে প্রশাসন। এছাড়া ওই এলাকায় পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে চলাচল এবং ঘর থেকে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। অপরদিকে, চীনা ৩ প্রকৌশলীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের ওই নারী জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে এসেছিলেন। তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ অবস্থায় স্বজনরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে শহরের লাইফ-লাইন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে ওই নারীর স্বজনরা তাকে কাশীনাথ রোডের বাসায় নিয়ে প্রচলিত নিয়মে গোসলসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেন। পরে মরদেহ রাতে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার ভাদগাঁও গ্রামে ওই নারীর স্বামীর বাড়িতে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই এলাকার গিয়াসনগর ইউনিয়নে বিকাল ৩টায় জানাজা শেষে মাদ্রাসার পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রোকসানা ওয়াহিদ রাহি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মৃত্যু নারীর বাসায় গিয়ে আলামত সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী জানান, মৌলভীবাজার শহরের কাশীনাথ সড়কের মকসুদ ভিলার মালিকের স্ত্রী ২০-২৫ দিন আগে ব্রিটেন থেকে দেশে আসেন। রবিবার রাতে তিনি বাসায় মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি কাশি ও সর্দি জ্বরে ভুগছিলেন।
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন তৌহিদ আহমদ বলেন, আমরা এই মুহূর্তে খুব ব্যস্ত আছি। বিষয়টি পরে ব্রিফিং করে জানানো হবে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ পিপিএম (বার) জানান, শহরের কাশীনাথ সড়কে লোক চলাচল সীমিত রাখতে পুলিশ আপাতত বেষ্টনি দিয়ে রেখেছে।
৩ চীনা প্রকৌশলী কোয়ারেন্টিনে: এদিকে দিনাজপুরের কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত তিন চীনা কর্মকর্তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। তারা চীন থেকে ফিরেছেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় তারা বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এলে একটি বিশেষ গাড়িতে তাদের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে এনে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। ওই তিন চীনা কর্মকর্তারা হলেন- প্রকৌশলী চিংজি ফিং, প্রকৌশলী ইউ জিংটাং ও প্রকৌশলী ডাংজিন লং। তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (এমডি) মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় হলদিবাড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মিলন আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল তাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন।

