মধ্যপ্রাচ্যে কারফিউ, বিশ্ব পরিস্থিতি ভয়াবহ

মধ্যপ্রাচ্যে কারফিউ, বিশ্ব পরিস্থিতি ভয়াবহ

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৩ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২২ঃ১৯

করোনাভাইরাস সংক্রমণ সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কারফিউ জারির মতো সিদ্ধান্তে গেছে। কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর। শঙ্কা দেখা দিয়েছে জাপানে আসন্ন অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে। করোনাভাইরাসের কারণে সোমবার (২৩ মার্চ) বিশ্বে আরও যেসব উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে বিবিসির বিশেষ প্রতিদেনটি উত্তরদক্ষিণের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

সৌদিতে কারফিউ: করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তিন সপ্তাহের জন্য রাত্রিকালীন কারফিউ ঘোষণা করেছে। কারফিউ ঘোষণা করেছে কুয়েত ও বাহরাইনও।

মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান: করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার। দেশটির টেলিভিশনে দেয়া বক্তৃতায় ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি বলেছেন যে, আমেরিকা ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু । এমনকি করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগে মহামারির পেছনে আমেরিকাকে দায়ী করছেন তিনি। ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

খোমেনি বলেন, আমি জানি না যে- এই অভিযোগ কতটা বাস্তব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে কারা সরল মনে বিশ্বাস করবে যে, আপনাদের থেকে ওষুধ নেয়া নিরাপদ? হয়তো আপনাদের ওষুধের মাধ্যমেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোনও প্রমাণ না দিয়েই তিনি অভিযোগ করেন যে এই ভাইরাসটি ইরানিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এজন্য তারা বিভিন্ন উপায়ে ইরানিদের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। ইরানের ওপর পরমাণু নিষেধাজ্ঞা না তুলে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাবকে আমেরিকার ভণ্ডামি বলে অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত রেকর্ড করা হয়েছে ইরানে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইরানে অন্তত ২১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসবাহী এই রোগে দেশটির সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ জনে। বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ইরানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

কোয়ারেন্টিনে জার্মানির চ্যান্সেলর:
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ এবং দু’জনের বেশি লোকের সমাবেশকে নিষিদ্ধ করেছে জার্মানি। পুরো পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে কাজ করছে পুলিশ। এর আওতায় বিউটি পার্লার, সেলুন এবং ম্যাসেজ স্টুডিওগুলি বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অতি জরুরি নয় এমন পণ্যের দোকান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটিতে।

রেস্তোরাঁগুলোকে কেবল টেকওয়ে বা খাবার নিয়ে যাওয়া পরিষেবার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ রেস্তোরাঁয় আর বসে খাওয়ার সুযোগ নেই। দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার ‘সবচেয়ে কার্যকর উপায়’ হলো আমাদের ‘নিজস্ব আচরণ’। নাগরিকদের নিজের পরিবারের বাইরে বাকি সবার সাথে কমপক্ষে ৫ ফুট দূরত্বে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের অফিস জানিয়ে যে, তিনি নিজেকে কোয়ারেন্টিন করে রাখছেন। এর কারণ ৬৫ বছর বয়সী মার্কেল ভাইরাস আক্রান্ত একজন ডাক্তারের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। সামনের কয়েকদিন নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং তিনি বাড়ি থেকে কাজ করবেন বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা: অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় খুব প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে দেশটি পানশালা, ক্লাব, জিমনেশিয়াম, সিনেমা হল ও উপাসনালয়গুলো বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

তবে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোকে কেবল টেকওয়ে সেবা দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।ক্রেতারা কেবল খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। বসে খাওয়ার কোন সুযোগ নেই সেদেশেও।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এসব নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। নতুন বিধিনিষেধের কারণে এখন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে সেখানে। তবে সুপারমার্কেট, পেট্রোল স্টেশন, ফার্মেসি এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবা আগের মতোই চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে. তিনি স্কুলগুলি খোলা রাখতে চান। তবে শিশুদের বাবা-মা চাইলে সন্তানদের বাড়িতে রাখতে পারবেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১ হাজার ৩১৫ জনে পৌঁছায়। কোভিড -১৯ থেকে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরের সীমান্ত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। নতুন নিয়মের অধীনে, বিদেশে যাতায়াতকারীদের ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এদিকে, তাসমানিয়া, ইতিমধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

নিউজিল্যান্ডে পরিস্থিতি: নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে যে, এই সপ্তাহে অতি প্রয়োজনীয় নয় এমন পরিষেবাগুলো তারা বন্ধ করতে শুরু করবে। এর আওতায় দেশটির পানশালা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফেসহ স্বল্প প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- বন্ধ করা হবে। স্কুলগুলি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
গণপরিবহন শুধুমাত্র তাদেরকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে, যারা সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা দিচ্ছেন। দেশের সব মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমপক্ষে চার সপ্তাহের জন্যে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে সিঙ্গাপুর: এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির মতো যারা সংক্রমণের প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে সিঙ্গাপুর অন্যতম। তবে দেশটি এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় অতিক্রম করছে। কারণ, বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশ থেকে সিঙ্গাপুরে আসতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বিদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে ফেরা ব্যক্তিদের কারণে স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় সংক্রমণের সংখ্যা গত রবিবার পর্যন্ত ছিল ২০৮ জন এবং বিদেশ থেকে ফেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জনে। এ অবস্থায় দেশটির সরকার এখন পর্যটক এবং এমনকি কাজের পাসধারী কর্মীদেরও দেশে ফিরে আসতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

টোকিও অলিম্পিক স্থগিত হতে পারে: জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, অলিম্পিক গেমসের সম্পূর্ণ ফর্ম ধরে রাখা সম্ভব না হলে এবারের আসর স্থগিত করা হতে পারে। তিনি বলেছেন, গেমস স্থগিতের করা ছাড়া হয়তো তার দেশের আর কোনও উপায় নেই। তবে এই আসর বাতিল করার কথা তারা ভাবছেন না।

গত সপ্তাহের শুরুতে তিনি যা বলেছিলেন তার সঙ্গে তার এবারের মন্তব্যের মধ্যে এটি নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। তখন তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, জাপান সংক্রমণের বিস্তারকে কাটিয়ে উঠবে এবং সমস্যা ছাড়াই অলিম্পিকের আয়োজন করবে। এই জুলাইয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডা অলিম্পিকে অংশ নেবে না: কানাডা ঘোষণা করেছে যে ২০২০ সালের অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক গেমসে তারা তাদের কোনও দল পাঠাবে না। করোনাভাইরাস ঝুঁকির কারণে তারা নিজেদের ক্রীড়াবিদ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডিয়ান অলিম্পিক কমিটি, আইওসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা টোকিও গেমস এক বছরের জন্য স্থগিত করে। কানাডা বলছে যে, বিশ্ব একটি স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা খেলাধুলার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটেনে ১৫ লাখ চিঠি: করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে ইংল্যান্ডের ১৫ লাখ মানুষকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন বাড়িতে থাকেন। তাদেরকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বা মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে, সেখানে তাদের দৃঢ়ভাবে ১২ সপ্তাহের জন্য বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রত্যেক নাগরিককে নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে ব্রিটেনের ধর্মীয় জমায়েত বিধিনিষেধ আরও করা হয়েছে। দেশটিতে সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২৮১ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৬৮৩ জনে পৌঁছেছে।

নিউইয়র্কে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা: পুরো আমেরিকার মধ্যে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নি ইয়র্ক। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূলত চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহের যে অভাব রয়েছে সেটা আরও প্রকট হবে বলে নিউইয়র্কের মেয়র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত রবিবার মেয়র বিল দি ব্লাজিও বলেন, আমরা ভয়াবহ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে মাত্র ১০ দিন দূরে রয়েছি। যদি আমরা পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না পাই তবে আরও মানুষ মারা যাবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, পুরো নিউইয়র্ক রাজ্যটি মার্কিন আমেরিকায় করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকের বাস ওই রাজ্যটিতে। মার্কিন আমেরিকায় বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫৭ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৯০ জন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, দেশব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সরবরাহ যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছেন ব্লাজিও।

ফিলিস্তিনে সংক্রমণ: বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিচ্ছে, গাজা ভূখণ্ডে করোনাভাইরাসের প্রথম দুজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর পশ্চিম তীরে দু’সপ্তাহের জন্য লকডাউন শুরু করেছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়ায় সংক্রমণ: যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছে, বলছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিটির ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কলম্বিয়ার কারাগারে ২৩ জনের মৃত্যু: করোনাভাইরাস নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বোগোটা শহরে দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগারে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। কলম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী মার্গারিটা ক্যাবেলো বলেছেন, লা মডেলো কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় ৮৩ জন আহত হয়েছেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে কারাগারে বন্দিদের উপচে পড়া ভিড় এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে রবিবার সারাদেশের কারাগারে থাকা বন্দিরা প্রতিবাদ করেন। বিচারমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

মার্গারিটা ক্যাবেলো জানান, ৩২ জন বন্দী এবং ৭ প্রহরী হাসপাতালে রয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন প্রহরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে কারাগারের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে পয়ঃনিস্কাশনের কোনও সমস্যা নেই। পরিকল্পনা করে এই দাঙ্গা বাধানো হয়েছে। সেখানে কারও মধ্যে সংক্রমণ নেই। কোনও বন্দী বা হেফাজতকারী বা প্রশাসনিক কর্মচারীর করোনাভাইরাস নেই।

কলোম্বিয়ার বিচার বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটির ১৩২টি কারাগারে ৮১ হাজার বন্দি ধারণক্ষমতা থাকলেও সেখানে থাকেন এক লাখ একুশ হাজারেরও বেশি বন্দী। বিবিসির খবর অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় করোনাভাইরাসের ২৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

আর্জেন্টিনা লকডাউন: মার্চ মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাবার ও ওষুধ কেনা ছাড়া দেশের সব নাগরিককে বাড়িতে থাকার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ইউরোপের অনুপাতে পৌঁছায়নি। সেখানকার সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে বিবিসির ক্যাটি ওয়াটসন বলেছেন।

ইউরোপ পরিস্থিতি: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে রবিবার নতুন করে ৬৫১ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৬ জনে। যা একক দেশ হিসেবে করোনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড। নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা শনিবারের চাইতে কম হলেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

মৃত্যু সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে করোনার উৎপত্তি দেশ চীন। সেখানে মারা গেছে ৩১০০ জন। অবশ্য বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রাণঘাতি নভেল করোনা চীন থেকে ছড়িয়ে গেলেও সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হয়েছে দেশটির। নতুন করে চীনে গত কয়েকদিন ধরে আর কেউ আক্রান্ত হচ্ছে না।

ইতালিতে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশটির মানুষ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, শতাংশের হিসেবে তা অনেকটাই নেমে এসেছে। যেমন গত দুই সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭৮ জন থেকে বেড়ে ৫৯ হাজার ১৩৮ জন হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন। এর আগে ইতালির রাষ্ট্রপতি সের্জিও মাত্তারেলা বলেছেন যে, তিনি আশা করেন ইতালি থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা নিতে পারে।

এদিকে, ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে একদিনে ৩৯৪ জনের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ চিত্র। এতে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২০ জনে। দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা ১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে চাইছেন। তবে এই প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে অনুমোদিত না হলে বাস্তবায়ন করা যাবে না। গত ১৪ মার্চ থেকে স্পেনের মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছিল।

রবিবার দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা আগামী ৩০ দিনের জন্য বিমান ও সমুদ্র বন্দরে বেশিরভাগ বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করবে। করোনা ছড়িয়ে পরা ইউরোপের আরেক দেশ- ফ্রান্সে নতুন করে ১১২ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে মহামারি আকারে বিশ্বে ছড়িয়ে পরা করোনাভাইরাসে।

একনজরে করোনাভাইরাসের বিশ্ব পরিস্থিতি: বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইতালি: ৫,৪৭৬ জান, হুবেই প্রদেশ, চীন: ৩,১৫৩, স্পেন: ১,৭৭২ জন, ইরান: ১,৬৮৫, ফ্রান্স: ৬৭৪।

বিশ্বব্যাপী ৩ লাখ ৩০হাজারেরও বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত দেশ ও আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে- চীন: ৮১ হাজার ৪২৬ জন, ইতালি: ৫৯ হাজার ১৩৮, আমেরিকা: ৩৩ হাজার ২৭৬, স্পেন: ২৮ হাজার ৭৬৮ ও জার্মানি: ২৪ হাজার ৮৭৩ জন। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সহায়তায় বিবিসির খবরে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসেও মৃত্যুর সংখ্যা ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা বাড়ছে বলে জানা গেছে। সবাইকে জীবাণুনাশক দেয়া হচ্ছে।

আফ্রিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে: করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এই ছুটির দিনে ১০০০ জন ছাড়িয়ে গেছে আফ্রিকায়। মহাদেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে, আফ্রিকায় বর্তমানে ১১৯৮ জনের কোভিড -১৯ রোগে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুবাই থেকে নিজ দেশ উগান্ডায় ফিরে আসা এক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গত সপ্তাহে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। দেশটিতে এটাই ছিল প্রথম কারও আক্রান্ত হওয়ার খবর। এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি সমস্ত ফ্লাইট নিষিদ্ধসহ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডায় সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের লকডাউনের মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়িয়ে দিতে পারে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে তারা লকডাউন আরোপ করেছিল। রুয়ান্ডায় এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ ১৭ জনের আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, এটি পূর্ব আফ্রিকায় সর্বোচ্চ।

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে কোভিড-১৯ এ প্রথম কারও মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। পেশায় চিকিৎসক ওই ব্যক্তি ফ্রান্স থেকে ফিরেছিলেন। পরে তার মধ্যে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তবে দেশটিতে ভাইরাস সংক্রমণের পরে ১০৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে ঘোষণা এসেছে।

রবিবার মরক্কোর লোকজনকে ঘরে থাকতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য রাস্তায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। কাজ করছে পুলিশও। শুক্রবার থেকে দেশটিতে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা কার্যকর আছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading