মিরপুরে ২ মৃত্যু, এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

মিরপুরে ২ মৃত্যু, এলাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৩ মার্চ ২০২০ । আপডেট ২২ঃ২৫

দেশে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয় রাজধানী মিরপুরের টোলারবাগে। গত শনিবার (২১ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। যে ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ৭৬ বছরের বৃদ্ধ পরের দিন ররিবার রাতে মারা যান। আইইডিসিআর এ ব্যাপারে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না করলেও পুলিশ জানিয়েছে রবিবার রাতের বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণও করোনা। অপরদিকে, শনিবার রাতে ডেল্টা হাসপাতালে যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তার চিকিৎসা দেয়া ব্যক্তির শরীরেও করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালটির আরও কয়েকজন ডাক্তার-নার্স ও পরিচালকসহ মৃত ব্যক্তির পরিবারের সবাইকে হোম করোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

সূত্রমতে, ওই সত্তোর উর্দ্ধ ওই ব্যক্তি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। পরিবারের ধারণা মসজিদ থেকেই তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। অপর যে ব্যক্তি পরের দিন মারা গেছেন, তিনিও একই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। সেই মসজিদ এলাকার অন্যান্য বয়ঃবৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়তে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে কয়েকজন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মিরপুরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এসব কারণে মিরপুরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা আলিয়ার সাবেক অধ্যক্ষের আবাসস্থল ছিল মিরপুর উত্তর টোলারবাগে। ওই এলাকায় জনমনে এখন এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। ওই ব্যক্তি আক্রান্ত অবস্থাতেই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোয়, স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন যে, এই ভাইরাস ইতোমধ্যে আশেপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ।

মিরপুর টোলারবাগের এক বাসিন্দা পরিচয় প্রকাশ না করে বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে আমরা এমনিতেই কম বের হতাম। কিন্তু এই মৃত্যুর কারণে পুরো এলাকাই মনে হচ্ছে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে তেমন লোকজন নেই। সবাই এক ধরণের গৃহবন্দি। বাড়ির কাজের লোকদেরও আসতে মানা করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, ওই ব্যক্তির মাধ্যমে এই ভাইরাস হয়তো অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে। তবে গণমাধ্যমে ৯তলা বিশিষ্ট যে ভবনটি লকডাউন করার খবর প্রচার করা হচ্ছে- সেটির ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মিরপুরের পুলিশ উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে ওই ভবনে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ভবনের বাকি সদস্যদের সতর্কতার সাথে চলাফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফ্ল্যাট মালিকরা পুলিশ, আইইডিসিআর ও সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনায় ভেতরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাছ করছে বলে জানান তিনি। পুলিশ উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীর পরিবারকেই শুধু কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর অফিশিয়ালি কোন ভবন লকডাউন করা হয়নি। ভবনের বাসিন্দারা তাদের নিরাপত্তার জন্যই চলাচল সীমিত করেছেন। আমরা বলছি তারা যেন মাস্ক পরে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বের হন।

আক্রান্ত ব্যক্তি মিরপুরে যে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, সেখানকার চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উদ্বেগের মধ্যে আছেন। ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক কোয়ারেন্টিনে আছেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখ খোলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, যখন পরীক্ষায় জানা যায় যে ওই রোগী করোনা পজিটিভ তখন তো পুরা হাসপাতালেই একটা উদ্বেগজনক অবস্থা। এজন্য আমরা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতিতে গিয়েছি। আমি তো এখনও জানি না, আমি বা আমার সহকর্মীদের কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে আছি।

যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি কার কাছ থেকে ভাইরাসটি বহন করেছিলেন, সেটি এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। তবে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া তার এই সংক্রমণকে এখনই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলতে চাইছে না আইইডিসিআর। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, আমরা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আরেকটু সময় নেব। কারণ, আমরা সংক্রমণের উৎস খুঁজতে কাজ করে যাচ্ছি। ওই এলাকায় দু’জন প্রবাসী ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই যে, তারা আক্রান্ত কিনা বা তাদের থেকে সংক্রমণ হয়েছে কিনা।

সতর্কতা প্রয়োজন: কমিউনিটি ট্রান্সমিশন মানে যেখানে সংক্রমণের উৎস অর্থাৎ কার মাধ্যমে রোগী সংক্রমিত হয়েছিল সেটি যদি বের করা না যায়। এটি যেকোনো সংক্রমণ রোগের একটি পরবর্তী পর্যায়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট করার আগে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মিসেস ফ্লোরা। এর আগে তারা এটাকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলবেন না।

তবে পরিবারের দাবি, তিনি নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতেন। তাদের ধারণা সেখান থেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন মৃত ঢাকা আলিয়ার সাবেক অধ্যক্ষ এবং ৭৬ বছর বসয়ী তার ঘনিষ্ঠ জন। এলাকাবাসীর দাবি, করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে মিরপুরকে লকডাউন করার। যাতে পুরো এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading