গণস্বাস্থ্যের ল্যাব পরিদর্শনে প্রশাসন, ১১ এপ্রিল টেস্ট স্যাম্পল
উত্তরদক্ষিণ ০৮ এপ্রিল ২০২০ । ১৪:২৯
করোনাভাইরাস টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তৈরির জন্য ব্যবহৃত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরি এবং এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরিতে যান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চীন থেকে রিএজেন্ট আসার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা রোববার থেকেই কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী দিন/রাত সেখানে কাজ করছেন।
তাদেই এই কর্মকাণ্ড পরিদর্শন এবং ল্যাবের সক্ষমতা স্বচক্ষে দেখার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে ওষুধ প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। সেখানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ল্যাবরেটরির ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসনের বড় একটি টিম আজ এসেছিল। তারা আমাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমাদের সব কর্মকাণ্ডে তারা সমর্থন দিয়েছেন।’
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে ১০ হাজার স্যাম্পল তৈরির কাজ সম্পন্ন করবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এবং ওইদিনই সরকারের হাতে কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির স্যাম্পল তুলে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর স্যাম্পল তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এই মুহূর্তে তাদের ল্যাবের যে ক্ষমতা আছে, তাতে প্রতি মাসে এক লাখ স্যাম্পল তৈরি করতে পারবে তারা। অবশ্য এ জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন হবে ১০০ কেজি রিএজেন্ট।
এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘চীন থেকে যে রিএজেন্ট এসেছে, তা দিয়ে আমরা ১০ হাজার স্যাম্পল তৈরি করতে পারব। কিন্তু আমাদের সক্ষমতা হলো প্রতি মাসে এক লাখ। এখন আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী স্যাম্পল তৈরি করতে চাইলে, চীন থেকে আরও রিএজেন্ট আমদানি করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
এদিকে স্যাম্পল তৈরির পর পরীক্ষমূলক ব্যবহারের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রয়োজন কোভিড-১৯ পজেটিভ পাঁচ ব্যক্তির পাঁচ শিশি রক্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইইডিসিআর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই রক্ত পায়নি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। তবে তারা আশাবাদী খুব শিগগিরই ওই পাঁচ শিশি রক্ত তারা পেয়ে যাবেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রক্ত আমরা এখনও পাইনি। তবে আশা করছি খুব শিগগিরই পেয়ে যাব। আমাদের ব্যাপারে এখন সবাই ইতিবাচক। রক্ত দেওয়ারও তো একটা প্রসিডিউর আছে। বিষয়টা যেহেতু সিরিয়াস, সে জন্য একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে সবাইকে।’

