করোনায় জয়ার ব্যস্ততা!
উত্তরদক্ষিণ ১২ এপ্রিল ২০২০ । আপডেট ১৭:২২
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় অনেকেই গৃহবন্দী। স্বেচ্ছায় নিজেদের গৃহবন্দী করে রাখছেন বিশ্বের অগণিত মানুষ। তাদের মধ্যে আছেন বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও। অবশ্য এর ব্যতিক্রমও আছে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানও আছেন সেই ব্যতিক্রমী দলে। নিজের ‘সন্তানদের’ পাশাপাশি ছোট বোনকে নিয়ে ঘরে বাইরে সমান ব্যস্ততায় করোনাময় দিনগুলো কারছে তার।
অন্য সময় যার প্রতিটা দিন কাটতো- মেকআপ, গেটআপ, শুটিং, অনুষ্ঠান, ভক্তদের সেলফি, ব্যক্তিগত নানা বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়া আর গণমাধ্যম হ্যান্ডেল—এসব সামাল দিতে। শুধু জয়া কেন, প্রত্যেক অভিনয় শিল্পীর জন্যই এগুলো নিত্যদিনের ব্যস্ততার বিষয়। করোনাভাইরাসে বদলে গেছে তাদের নিয়মিত সেই জীবন।
দেশের বিনোদন তারকাদের নিয়ে এ রিপোর্ট খেলা পর্যন্ত শেষ খবর হচ্ছে, একজন নির্মাতা ছাড়া দেশের সব শিল্পী ও কুশলী থেকে নিরাপদে আছেন। নিরাপদে আছেন দুই বাংলার প্রভাবশালী অভিনেত্রী জয়া আহসানও। কলকাতায় নয়, লকডাউনের আগেই নিরাপদে ফিরেছেন ঢাকার ইস্কাটনে। তিন সপ্তাহের ওপরে মা রেহানা মাসউদ আর একমাত্র বোন কান্তাকে নিয়ে ভালোই সময় কাটছে তার।

তবুও প্রশ্ন করা যায়, এই যে বুলেট বেগে দুই বাংলায় ছুটে চলা ‘দেবী’র শুটিংহীন সময়গুলো কাটে কেমন করে? কাটে তো, নাকি আটকে থাকে! এমন প্রশ্নে তিনি জোরকণ্ঠেই বলেন, ‘কাটে মানে! দৌঁড়ায়। সারাদিন প্রচুর ব্যস্ত থাকি। আমার তো মনে হয় স্বাভাবিক জীবনে দম ফেলার অন্তত সুযোগ পাই, যেটা এখন পাচ্ছি না। ঘরের সবচেয়ে ছোট বোন ক্লিও আর বাইরের বাচ্চাগুলোকে সামলাতেই আমার দিন শেষ। ওদের খাওয়া-দাওয়া সব নিজ হাতেই করি। আমি বাসায় থাকলে মা কিংবা মেজো বোনকে সাধারণত এসব বিষয়ে আসতে দিই না।’
জয়াপ্রিয় বেশিরভাগ মানুষই জানেন, রেহানা মাসউদের সংসারে দুই মেয়ে এক ছেলে। দুইবোন জয়া ও কান্তা, তাদের একমাত্র ভাই অদিত। এই নিয়েই পরিপাটি মাসউদ পরিবার। অথচ এই করোনাকালে এসে জয়ার তথ্য খানিক গোলমেলে! বলছেন ছোটবোন ক্লিও। বলছেন- বাইরের বাচ্চাগুলো! তবে কি চলমান অসময়ে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিজীবনে আর কোনও আড়াল রাখতে চাইছেন না এই ‘কণ্ঠ’-নেত্রী? জবাবে তার কণ্ঠেও মিলেছে তাই। জয়া বললেন, ‘আমার জীবনে আসলে এখন আর আড়াল করার কিছু নেই। এটা সত্যি আমরা দুই বোন, এক ভাই। কিন্তু এরমধ্যে আমার মায়ের আরও একটি বাচ্চা হয়েছে! মেয়ে বাচ্চা। মূলত সে-ই আমাদের ঘরটাকে আলো করে রাখে। আমরা এখন তিন বোন, এক ভাই। সবচেয়ে ছোট বোনটার নাম ক্লিওপেট্রা। ডাকনাম ক্লিও। ও আমাদের কলিজার টুকরো।’
এতক্ষণে স্পষ্ট হলো, তাদের পোষা কুকুর ক্লিওপেট্রার কথা বলছেন জয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত নানা সময়ের পারিবারিক ছবি থেকেও জয়ার কথাগুলোর প্রমাণ মেলে। ক্লিও মাসউদ পরিবারের বড় অংশজুড়েই আছে। কিন্তু বাইরের বাচ্চাগুলো? তবে কী এরমধ্যে ঢাকার বাইরে কলকাতা শহরে জয়ার সংসার-স্বামী-বাচ্চাকাচ্চা…? না, তা ঠিক নয়। অলিখিত এই লকডাউন শহরে (ঢাকা) অবহেলিত ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোকে ঠিক নিজের বাচ্চার মতোই দেখছেন জয়া আহসান।
তার ভাষায়, এগুলো হচ্ছে তার বাইরের সন্তান। সম্প্রতি এই সন্তানদের খাওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বেশ আলোচনায় এসেছেন তিনি। হয়েছেন প্রশংসিত। তাদের নিয়েই প্রতিদিন ব্যস্ত থাকছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া।
জয়া আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল ৭টায় তার ’বাচ্চাদের’ জন্য রান্না শুরু করেন। ভাত আর মুরগির ঝোল। মেন্যুতে মাছও থাকে মাঝে মধ্যে। গত ২০ দিন ধরে টানা এই কাজটি তিনি নিজ হাতে নিয়মিত করছেন। প্রথম দুই সপ্তাহ নিজেই খাবারের ব্যাগ নিয়ে ছুটেছেন রাস্তা রাস্তায়। ১১ এপ্রিল থেকে এই খাবার রান্না করে দিচ্ছেন ভলান্টিয়ারদের হাতে। রোজ দুপুরে তারাই জয়ার বাচ্চাদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছে নিয়মিত।
ছোটবোন ক্লিও প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরাদিন ওর খাওয়া, গোসল, পটি করানো, ঘুম পাড়ানো, খেলা করা- সব এখন আমার করতে হয়। পড়াশুনাটাই করানো লাগে না!’ তথ্য সহায়তায় বাংলাট্রিবিউন।

