মসজিদে জমায়েত নিয়ে প্রতিবাদ, প্রাণ গেল যুবকের!
উত্তরদক্ষিণ ১৩ এপ্রিল ২০২০ । আপডেট ১৭:১০
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাঁচজনের বেশি একসাথে মসজিদে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফজরের নামের পর এ ঘটনা ঘটে। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, দুটি পরিবারের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। যার ধারা বাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সুজন শেখ নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে এশা’র নামাজ পড়ার সময় কয়েকজনকে বলেছে- পাঁচ জনের বেশি নামাজ পড়ো না। যেহেতু সরকারের একটা নির্দেশনা আছে। অন্য গ্রুপের কথা হলো পড়লে অসুবিধা কী? ওই জামাতে পাঁচজনের বেশি লোক গিয়েছিল। ওই যুবক তখন প্রতিবাদ করেছিল। এটা নিয়ে রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এই কথা কাটাকাটির জেরে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফজরের নামাজের পরপর মসজিদের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুজন শেখের উপর হামলা চালায় অপর পক্ষের লোকজন।
এসপি জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে আগে থেকেই দুটি পরিবার মাতবর ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ ছিল। গতরাতে দুই পক্ষের লোকেরাই একসাথে মসজিদে গিয়েছিলেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে নামাজ পড়া নিয়ে বিতর্ক হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সরকার নির্দেশনা দিয়েছিল যে মসজিদে একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি নামাজ পড়তে পারবেন না। সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদে শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমরা নামাজ পড়তে পারবেন। সাধারণ মানুষজনকে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। সূত্র: বিবিসি।

