গাজীপুরে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে

গাজীপুরে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধির নেপথ্যে

উত্তরদক্ষিণ ২০ এপ্রিল ২০২০ । ১৮:৩৩

রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে গাজীপুর জেলা। এরই মধ্যে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াইশ ছাড়িয়ে গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গাজীপুরে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সেখানে আক্রান্তের হার প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুয়ায়ী, গাজীপুরে আক্রান্তের হার ১৯.৫ শতাংশ।

গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান বলেন, সোমবার পর্যন্ত জেলাটিতে মোট করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৯ জন। এর মধ্যে সবশেষ একদিনে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪৯ জনকে। আর হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩৫৮৩ জন।

সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, তিনি নিজেও হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ইতই বাড়ছে। আর এই গতি বেশ দ্রুত। সিভিল সার্জন বলেন, গাজীপুরের অনেক শ্রমিক নারায়ণগঞ্জে কাজ করতো। আর যখন সব কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে গেলো তখন তারা আবার গাজীপুরে ফিরে আসে এবং সাথে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও নিয়ে আসে। সেটা এখন বিভিন্নভাবে ছড়াচ্ছে।

ডা. খায়রুজ্জামান বলেন, প্রথম দিকে যেসব করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে তারা হয় নারায়ণগঞ্জ ফেরত অথবা তাদের সংস্পর্শে এসেছে এমন মানুষজন। আর এভাবেই সংক্রমণ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া গাজীপুরে বিভিন্ন ধরণের গার্মেন্টস রয়েছে। আর সেগুলোর বেশ কিছু এখনো খোলা আছে। তাছাড়া বেতন-ভাতা নিয়ে যে ঝামেলাটা হলো তার কারণে এসব শ্রমিকরাও বেশ কিছুদিন মাঠ পর্যায়ে ছিল। যার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে বলে মনে করেন জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এদিকে, সোমবার সকালেএক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সামনে এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর অংশ হিসেবে জেলাটিতে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে মাঠ পর্যায়ে নানা ধরণের সমস্যার মুখে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো খোলা থাকার বিষয়টি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading