সুন্দরগঞ্জে ত্রাণের পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় নিলেন না শ্রমিকরা
উত্তরদক্ষিণ বুধবার ০৭মে ২০২০। ১৬:৩২
ত্রাণের পরিমান আশানুরুপ না হওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মাইক্রোবাস, মিনিবাস, বাস ও দূরপাল্লার কোচের কর্মহীন শ্রমিকরা ত্রাণ নেননি। এমতাবস্থায় ত্রাণ নিয়ে ফিরে গিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান।
জানা গেছে, করোনা প্রাদুর্ভাবের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষদেরকে সহযোগিতার জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ তাদের নিজস্ব বেতন থেকে একটি ত্রাণ তহবিল গঠন করেন। ওই তহবিল দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা দুর্যোগের এই সময়ে বিভিন্ন স্তরের অসহায় মানুষকে তাঁরা সহযোগিতা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা মোটর শ্রমিকদের নিকট থেকে ১’শ ৫৬ জনের একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা নেয়া হয়। কিন্তু ১’শ ৫৬ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫৬ জন শ্রমিককে পৌর মেয়র এর আগে ত্রাণ দেয়ায় ১’শ জন শ্রমিককে ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল ও ২ কেজি আলু ও ৪’শ গ্রাম ছোলা।
তালিকানুসারে বুধবার পৌরসভার ভুরারঘাট এম ইউ সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠে শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে যান- উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশরাফুজ্জান সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা ই মাহমুদ, থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম, মোটর শ্রমিক সভাপতি রেজাউল আলম সরকার রেজা ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্ত রায়।
বিতরণের সময় ত্রাণের পরিমান কম হওয়ায় মোটর শ্রমিকরা তা না নিয়েই ফিরে যান। তাদের দাবি ত্রাণের ক্ষেত্রে সরকার তাদেরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু ত্রাণের পরিমাণ কম হবে কেন?
উপজেলা মোটর শ্রমিক সভাপতি রেজাউল আলম রেজা বলেন, ‘ ত্রাণের পরিমাণ কম হওয়ায় শ্রমিকরা ত্রাণ নেয়নি। তবে তাদেরকে নেয়ার জন্য অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তারা নেয়নি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা ই মাহমুদ বলেন, ‘ আমরা এ সংকটের সময় উপজেলার কর্মকর্তাগণ স্ব-প্রণোদিত হয়ে আমাদের বেতনের টাকা দিয়ে একটি তহবিল গঠন করেছি। এখানে বেশি পরিমাণে ত্রাণ দেয়ার জন্য সাধ থাকলেও সাধ্য তো আমাদের নেই। ‘
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘এ দুর্যোগের সময় কর্মহীন মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ তহবিল গঠন করেছেন। সেই তহবিল থেকেই ১’শ শ্রমিককে সহযোগিতার জন্য ত্রাণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তা গ্রহণ না করায় ত্রাণ নিয়ে ফিরে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে। এখানে ব্যক্তিগত ত্রাণ তহবিল থেকে তো বেশি পরিমাণে দেয় সম্ভব নয়।’

