দেশে করোনার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে ২৪ লাখ শিশু!

দেশে করোনার মধ্যে জন্ম নিচ্ছে ২৪ লাখ শিশু!

উত্তরদক্ষিণ শুক্রবার ০৮ মে ২০২০। ১৫:৩৬

নভেল করোনাভাইরাস মহামারিতে রূপ নেওয়ার পর থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে আনুমানিক ২৪ লাখ শিশু জন্ম নেবে। আর চলমান লকডাউনের মতো পরিস্থিতিতে এসব শিশু ও তাদের মায়েরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ।

সংস্থাটি বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে প্রসূতি ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য সেবা যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, ১১ মার্চ কোভিড-১৯ কে মহামারী ঘোষণার পর থেকে প্রায় ১০ মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর জন্ম হবে।

সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বজুড়ে লকডাউনসহ নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ; মহামারি সামলাতে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত থাকায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি থাকবে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মা মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। এমন এক বিশ্ব বাস্তবতায় পৃথিবীতে নতুন জীবন আনার তাদের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যেখানে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অন্তঃসত্ত্বারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন বা লকডাউনের কারণে ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের মুখে থাকায় তারা জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আগামী ১০ মে, বিশ্ব মা দিবসের আগে ইউনিসেফ সতর্ক করছে যে, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপসমূহ শিশুর জন্মকালীন সেবার মতো জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত করতে পারে, যা লাখ লাখ অন্তঃসত্ত্বা মা ও তাদের সন্তানদের বিরাট ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশ্বের ১২৮টিরও বেশি দেশে দিবসটি স্বীকৃত।

কোন দেশে কত শিশু জন্ম নিচ্ছে?
মহামারি ঘোষণার পর ৯ মাসে যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশুর জন্মের আশা করা হচ্ছে সেগুলো হলো- ইন্ডিয়া (২ কোটি ১ লাখ), চীন (১ কোটি ৩৫ লাখ), নাইজেরিয়া (৬৪ লাখ), পাকিস্তান (৫০ লাখ) ও ইন্দোনেশিয়া (৪০ লাখ)। এগুলোর অধিকাংশ দেশে মহামারির আগে থেকেই নবজাতকের উচ্চ মৃত্যু হার ছিল এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই হার আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা/ হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষাকারী রুটিন সেবাসমূহ যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading