কদমতলীতে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী

কদমতলীতে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৯:৪৭

রাজধানীর কদমতলীতে ইয়ানূর (২৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান তার স্বামী।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিপটি গলির একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসার কক্ষের খাটের নিচ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল রানা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কদমতলী থানা সূত্র জানায়, খবর পেয়ে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী থানার পুলিশ ডিপটি গলির ৬৭০ নম্বরের জিএম কাদেরের ভাড়া বাসায় যায়। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে খাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় ইয়ানূরের মরদেহ পাওয়া যায়।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর কক্ষটি তালাবদ্ধ করে তার স্বামী পালিয়ে যান।’

তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে জুয়েল রানা ও ইয়ানূর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসার একটি কক্ষ সাবলেট হিসেবে ভাড়া নেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাদের মধ্যে ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো।

তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই ইমাম হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জিকুরুল ইসলাম ওরফে জুয়েলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর তার বোনের বিয়ে হয়।

জুয়েল পটুয়াখালীর একটি বাসে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন বলেও জানান তিনি।

ইমাম হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মা ফোনে ইয়ানূরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে না পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় গিয়ে কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার বোনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।’

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার গোয়াবাড়িয়া এলাকার হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। বর্তমানে তিনি কদমতলীর ডিপটি গলির ওই বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইয়ানূর ছিলেন বড়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading