ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ৭ জেলায় ঝরলো ১২ প্রাণ
উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২০। ১২:১৫
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দুর্যোগে মধ্যে সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, যশোর, পিরোজপুর, ঝিনাইদহসহ দেশের ৭ জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২০ মে) বিকাল থেকে রাতে ঘূর্ণিঝড় চলাকালে তাদের অকাল মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, সুপার সাইক্লোন আম্পান শক্তি কিছুটা হারিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে বুধবার (২০ মে) দুপুরের পর ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় প্রবেশ করে বাংলাদেশের উপকূলে। ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন উপকূলের ১০ লাখ গ্রাহক। এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে তাদের বেশিরভাগই ঝড়ে গাছ বা ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর ও যাশোরে তিনজন করে, পটুয়াখালীতে দুজন এবং ঝিনাইদহে, সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনায় একজন করে মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, আম্পানের ছোবলে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ১৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। তাছাড়া প্রবল ঝড়ের কারণে গাছপালা উপরে পরে শতাধিক বসতঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালীর বড়বিঘাই থেকে হামিদা বেগম জানান, ঘূণিঝড়েরর কারণে মঙ্গলবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই ইউনিয়নের বিউটি বেগম জানান, তাদের বাড়ি পায়রা নদীর পারে। ঝড়ের কারণে তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হুহু করে নদীর পানি প্রবেশ করে বিস্তির্ণ এলাকায়। এতে তাদের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। পানি ঘরেও প্রবেশ করে। এতে ঘরের বিছানাপত্র থেকে শুরু করে সব নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বিউটি বেগমেরই নয়। তিতকাটা এলাকার অনেক বাড়িতেই পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাণ হানির ঘটনা সেখানে ঘটেনি।

