আম্পানে লন্ডভন্ড উপকূল: ১ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন

আম্পানে লন্ডভন্ড উপকূল: ১ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন

উত্তরদক্ষিণ বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২০। ১৪:১৫

পটুয়াখালীর বড়বিঘাই থেকে হামিদা বেগম জানান, ঘূণিঝড়েরর কারণে মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় ঘরের রাতে হামিদা বেগমকে নানা সমস্যায় পাড়তে হয় বাসার বয়স্ক শ্বশুর শাশুরিকে নিয়ে। তবে এই সমস্যায় শুধু তিনি একা নন। উপকূলীয় অঞ্চলের ১০ লাখ গ্রাহকসহ সারাদেশের অন্তত ১ কোটি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে। তবে সবচেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) সারারাতের ঝড়-বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার মেরামতের কাজে নেমেছে বিতরণ সংস্থার কর্মীরা। কিছু কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হলেও সেটার পরিমাণ কম। বড় বড় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। কোথাও কোথাও উপড়ে পড়েছে বা ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। এসব কারণে বিদুৎসংযোগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই/তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

পল্লি বিদ্যুৎ বোর্ডের (আরইবি) সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অঞ্জন কান্তি দাশ বলেন, ‘আম্পানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হলাম আমরা। আমাদের গ্রাহক বেশি। উপকূলের অধিকাংশ জেলা বিদ্যুৎবিহীন। আমরা ঝড় কমার পর ভোর থেকেই মেরামতের কাজে নেমে গেছি। বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠিসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে কিছু কিছু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। আরইবির গ্রাহকদের মধ্যে ঢাকার আশপাশ ছাড়া কমবেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, খুলনা, বরিশাল বেল্টে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে প্রায় ২০০ এর মতো। অসংখ্য বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে বড় বড় গাছ পড়ে। আমাদের ২ কোটি ৮৫ লাখ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে আরও বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে উপকুলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক উদ্দিন জানান, ‘এর আগে এই ধরনের ঝড় আসলে আমাদের কেউ দেখেনি। প্রায় সারারাতই ঝড় হয়েছে। ফিডারগুলো একটা পর্যায়ে এক এক করে সব বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি গ্রিডও বন্ধ হয়ে গেছিল। কোথাও ১৩২ লাইন ট্রিপ করে, কোথাও ওভার ভোল্টেজে ট্রান্সফরমার ট্রিপ করে। এতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আর আমাদের অসংখ্য খুটি ভেঙে গেছে ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১২ লাখ গ্রাহকই ক্ষতিগ্রস্ত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আমাদের টিমগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ শুরু করেছে। আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করা হচ্ছে। বরিশাল, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছি। কিন্তু সেখানে আবার কিছু কিছু ফিডার চালু করা এখনও সম্ভব হয়নি।’ বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আমাদের সমস্যা হয়েছে। ভোলা থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়েই চলেছে ঝড়ের তাণ্ডব। ফলে ক্ষতিও হয়েছে অনেক। আমাদের গ্রিডে এখন বিদ্যুৎ আছে। কিন্তু বিতরণ লাইনের সমস্যার কারণে তারা বিদ্যুৎ নিতে পারছে না। আমাদের এখন একমাত্র সমস্যা কুষ্টিয়াতে। শহরসহ আশেপাশে বিদ্যুৎ নেই। আমরা ভেড়ামারা থেকে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর দিতে অনুরোধ করেছি।’

এর বাইরে পিডিবিরও বেশ কিছু লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারাও সকাল থেকে কাজ শুরু করেছে। আজ রাতের মধ্যে সরবরাহ ঠিক হবে বলে তারা আশা করছে। এদিকের ঢাকায় বিদ্যুতের কোনও সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছে বিতরণ কোম্পানি দুইটি। তথ্য সহায়তা বাংলাট্রিবিউন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading