ময়মনসিংহে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু: ৪২ দিন পর লাশ নিলো পরিবার

ময়মনসিংহে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু: ৪২ দিন পর লাশ নিলো পরিবার
মরদেহ/লাশ

উত্তরদক্ষিণ : শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০ । আপডেট ২১ঃ৫৪

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরও যেন ভোগান্তির শেষ নেই। মারা যাওয়ার ৪২ দিন পর গত বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) রাত ৯টার দিকে আরাফাত হোসেনের (১৭) লাশ নিলো তার পরিবার। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ওই কিশোরের মরদেহ হস্তান্তর ও দাফনের জন্য বেশ ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেছে। যদিও তার মৃত্যুর পর পাওয়া টেস্টের ফল ‘নেগেটিভ’ আসে।

গত ২২ এপ্রিল ত্রিশাল উপজেলার চড়ইতলি গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে আরাফাত মারা যায়। তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মত কিছু উপসর্গ ছিল। এলাকাবাসীর বাধার কারণে ছেলের লাশ নিতে পারছিলেন না বাবা মজনু মিয়া। ৪২ দিন পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ ছেলের লাশ পেলেন তিনি। এত দিন আরাফাতের লাশটি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে ছিল।

মজনু মিয়া জানান, তার ছেলে আরাফাত গাজীপুরে বেকারি শ্রমিকের কাজ করতো। শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া জনিত সমস্যা নিয়ে ২০ এপ্রিল ময়মনসিংহের সূর্যকান্ত (এসকে) হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। ২২ এপ্রিল সে মারা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রেখে দেয়। মৃত্যুর দু’দিন পর নমুনা পরীক্ষার ফলে করোনা নেগেটিভ আসে। তারপরও আরাফাতের পরিবার মরদেহ নিতে আসেনি। দীর্ঘদিনেও মরদেহ পরিবারের পক্ষ থেকে না নেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানাকে অবহিত করে একটি চিঠি দেয়।

এরপর আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বাবা মজনু মিয়া থানায় এসে মৃতদেহ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বুধবার (০৩ জুন) একটি লিখিত আবেদন দেন। তিনি ছেলের লাশ ইসলামি শরিয়া মোতাবেক দাফনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেন। ‘এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা ভেবে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মজনু মিয়া জানান।

এ বিষয়ে মজনু মিয়া জানান, করোনা সন্দেহে আরাফাতের মারা যাওয়ার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসী ছেলের লাশ নিয়ে যেতে মানা করে। স্থানীয় লোকজনের চাপের কারণে ছেলের মৃতদেহ ওই সময় হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়িতে নিতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, পরিবারের সবাই ভেবেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় তারা হয়তো আরাফাতের লাশ সরকারিভাবে দাফন করেছে। এতদিন আরাফাতের লাশ হাসপাতালে আছে সেটা তারা বুঝতে পারেনি। থানা থেকে পুলিশ তাকে ডেকে পাঠানোর পরে এ বিষয়টি জানতে পারেন।

আরাফাতের মরদেহ হস্তান্তরে পেশাগত দায়িত্বের বাইরে মানবিক কারণে বৈশাখী টিভি’র প্রতিনিধি আ ন ম ফারুক ভূমিকা রাখেন।

এ ছাড়া কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার ও দাফন কাফনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই আনোয়ার হোসেন সার্বিক সহযোগিতা করেন।

মজনু মিয়া জানান, এখন ছেলের মরদেহ নিয়ে ধর্ম মতে দাফন করবেন।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading